আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের মালদা জেলার বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী তাজমুল হোসেনকে এবার এসআইআর শুনানির পাঠাল নির্বাচন কমিশন। হরিশচন্দ্রপুর বিধানসভার এই বিধায়ক নোটিস পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, বিষয়টি একেবারেই অযৌক্তিক ও হয়রানির। প্রসঙ্গত, তাজমুল রাজ্যের ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ ও বস্ত্রবয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী। 

এবিষয়ে তাজমুলের দাবি, যে নামের কারণে তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে সেই নাম এবং তাঁর বাবার নাম ২০০২ সাল থেকে একই রয়েছে। বর্তমানেও কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। তাঁর দাবি, সমস্ত নথিপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন তাঁকে শুনানির নোটিস পাঠিয়েছে। বিষয়টি তিনি অযৌক্তিক ও হয়রানিমূলক বলে ব্যাখ্যা করেছেন।‌

তবে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও মন্ত্রী জানান, আইন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় প্রতি সম্মান জানিয়েই আগামী ২৯ জানুয়ারি নির্ধারিত শুনানিতে তিনি উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি মন্ত্রীর কাছে এই নোটিস আসার পর মালদা জেলা জুড়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতুহল তৈরি হয়েছে।

 

অন্যদিকে, সোমবার সকালে জানা গেল, এসআইআর শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে, আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকেও। জাঙ্গিপাড়া বিডিও অফিসে ২৭ জানুয়ারি শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে ভাঙড়ের বিধায়ককে। 

 

অন্যদিকে, মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদারকে এস আই আর (SIR)-এর পক্ষ থেকে হিয়ারিংয়ের জন্য তলব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ ও তথ্য যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই এই শুনানির ডাক দেওয়া হয়েছে। আগামী নির্ধারিত দিনে তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করতে বলা হয়েছে সাংসদকে। 

ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ দেব এবং রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামের পর এ বার নোটিস গেল মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদারের কাছে। এসআইআর নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সিইও দপ্তরে তৃণমূলের যে প্রতিনিধিদল বার কয়েক গিয়েছে, সেই দলে ছিলেন বাপি হালদার। রবিবার নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। 

 

তৃণমূলের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের ডাকার মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে কমিশন। তারা বিজেপির কথা মতো কাজ করছে। এসআইআরের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার। তিনি বলেন,আমাদের অনেক সাংসদকে এ ভাবে ডাকা হচ্ছে। যেখানে মাউসের একটি ক্লিকে জনপ্রতিনিধিদের সমস্ত তথ্য জানা যায়, সেখানে এগুলো করা হচ্ছে কেন? শুধুমাত্র ভয় দেখাতে।’

তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আতঙ্কিত করতে চাইছে কমিশন। তিনি তফসিলি জনজাতির প্রতিনিধি। তাঁদের হয়রানি করাই কমিশনের উদ্দেশ্য। বাপি হালাদার বলেন, কিন্তু তৃণমূলকে এ ভাবে হয়রান করতে পারবে না। চ্যালেঞ্জ নিতে আমরা প্রস্তুত।উল্লেখ্য, সম্প্রতি মথুরাপুর সহ ডায়মন্ড হারবার, জয়নগর ও মগরাহাট এলাকায় এস আই আর সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে দেখা গেছে। একাধিক জায়গায় রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।