আজকাল ওয়েবডেস্ক: একবার নয়, দু দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা! প্রথমবার বিষ খেয়ে বিফল হয়ে শেষে রেললাইনে মাথা দিয়ে আত্মঘাতী হন পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের আমড়াল গ্রামের মিলন রায়। তাঁর এই মৃত্যুতে শোকের ছায়া গ্রামে। জানা গিয়েছে, এসআইআর শুনানিতে তাঁকে ডাকা হয়েছিল। এই আতঙ্কেই ছেলে প্রাণ দিলেন, দাবি পরিবার এবং গ্রামের অন্যান্য প্রতিবেশীদের।

পরিবারের দাবি, নামের পদবীতে ভুলের কারণে নোটিশের আতঙ্কেই নাকি আত্মহত্যা করেছেন মিলন রায় নামে ৩৫ বছর বয়সের ওই যুবক। মিলন রায়ের বাবার বাড়ি বাঁকুড়ার ইন্দাস থানা এলাকায়। তাঁর মা মারা যান জন্মের পরই। তাই তখন থেকেই মিলন পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের আমড়ালে তাঁর মামার বাড়িতে থাকতেন। 

মৃতের আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে আরও জানা গিয়েছে, ভোটার লিস্টে বাবার পদবী বাগদী আর মিলনের পদবী রায়। এর ফলে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি হিয়ারিং এর নোটিশ আসার কারণে আতঙ্কে ভুগছিলেন মিলন। গত ২১ জানুয়ারি তাঁর হিয়ারিং ছিল খণ্ডঘোষ বিডিও অফিসে। 

কী হবে এই আতঙ্কে ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে মিলন কীটনাশক পান করে। পরে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে ২১ শে জানুয়ারি সন্ধার পর বাড়িতেও ফেরেন মিলন। কিন্তু এরপর পুনরায় তিনি নিজেকে শেষ করবার পরিকল্পনা করেন৷ 

বাংলাদেশে যাওয়ার আতঙ্ক তাঁর মাথা থেকে দূর করা যাচ্ছিল না বলে দাবি পাড়া-প্রতিবেশীদের। গত ২৩শে জানুয়ারি শুক্রবার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই বাঁকুড়া হাওড়া ভায়া মশাগ্রাম রেললাইনে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে মিলন। গতকাল রাতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

পরিবার ও প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে, এসআইআর হিয়ারিং এর নোটিসের কারণেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন মিলন। অন্যদিকে, শাসকদলের তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআইএমের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, এসআইএর আতঙ্কে দিশেহারা গরিব মানুষ। এবারে মিলনও তার বলি হল।