আজকাল ওয়েবডেস্ক: শাসকদল তৃণমূল এবং বামেদের পর এসআইআর নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ বর্ধমান জেলা কংগ্রেসের। পূর্ব বর্ধমান জেলা আইএনটিইউসি ও জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে এসআইআর শুনানিকেন্দ্রে ন্যায্য ভোটারদের হয়রানির প্রতিবাদে আধিকারিকদের হাতে গোলাপ ফুল দিয়ে প্রতিবাদ কংগ্রেস কর্মীদের। এই অভিনব অভিযানে এসআইআর ইস্যুতে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিল কংগ্রেস।
বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমান জেলা কংগ্রেসের কর্মী ও নেতারা জমায়েত হন জেলা পরিষদের সামনে। হাতে গোলাপের ডালি নিয়ে হাজির হন স্থানীয় কংগ্রেস নেত্রী। একটু পরে এসে উপস্থিত হন স্বয়ং গান্ধীজিও। মহাত্মা গান্ধীর সাজে হাজির ছিলেন এক কংগ্রেস কর্মী। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি ধুর্জটি মাঝি ও আইএনটিইউসি সভাপতি গৌরব সমাদ্দার। জেলা পরিষদের সামনে থেকে মিছিলের মাধ্যমে জেলাশাসকের দপ্তরে শুনানিকেন্দ্রে আসেন কংগ্রেস কর্মীরা।
শুনানিকেন্দ্রে গিয়ে গান্ধীর বেশে থাকা কংগ্রেস কর্মী আধিকারিকদের হাতে গোলাপ তুলে দেন। জ্ঞানেশ কুমারের প্রতিকৃতিতে পদ্মফুলের মালা পড়ানো ছবি ও পোস্টার নিয়ে কেন্দ্রের ভিতরেও স্লোগান দেন কংগ্রেস কর্মীরা। যদিও পুলিশ মোতায়েন থাকায় বিশৃঙ্খলা তেমন হয়নি।

কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার জানান, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের যে হয়রানি চলছে, তাতে এটুকু নায্য। মানুষের স্বার্থে তাদের এই গান্ধীগিরি। একই কথা জানালেন গান্ধীর বেশে থাকা আসা কংগ্রেসের তরুণ কর্মী শান্তনু ঘোষ।
প্রসঙ্গত, বুধবার এসআইএর ইস্যুতে পথে নামে জেলা তৃণমূল। বুধবার বিকেলে দলের পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির ডাকে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। দুপুরের পর থেকে টাউনহলে জমায়েত হন তৃণমূলের কর্মীরা। দলের তরফে জানান হয়, এসআইএর নিয়ে বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা ও হয়রানির প্রতিবাদে এই আন্দোলন।
এদিন জেলাশাসককে ডেপুটেশনের কর্মসূচিও ছিল। গোটা কার্জন গেট চত্বরে ছিল বিরাট পুলিশি ব্যবস্থা। একই সময়ে বামেদের জেলা পরিষদের অভিযানও ছিল। তাই প্রচুর পরিমাণে পুলিশকর্মী উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের ব্যারিকেডও ছিল। জেলার নানা প্রান্ত থেকে তৃণমূলের কর্মীরা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন। স্লোগানে-ফেস্টুনে মিছিলের মেজাজ ছিল চড়া। এদিনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয় যখন এক পর্যায়ে ব্যারিকেডের সামনে এসে পড়েন উত্তেজিত জনতা। পরে একটি প্রতিনিধিদল জেলাশাসককে স্মারকলিপি জমা দেয়। বক্তব্য রাখেন দলের নেতারাও।
বুধবারের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, সাংসদ শর্মিলা সরকার ও জেলায় দলের বিধায়করা অংশ নেন। ছিলেন বাগবুল ইসলাম, দেবু টুডু-সহ দলের নেতারা।
