আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় শুনানি পর্ব চলছে জোরকদমে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যজুড়ে আনম্যাপ ও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকা প্রকাশের জন্য তার প্রক্রিয়া জোরকদমে চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। 

 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ও আনম্যাপ মিলিয়ে মোট শুনানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ। যার মধ্যে ৩২ লক্ষ আনম্যাপ ভোটারদের তালিকা রয়েছে এবং বাকি ১ কোটি ৩৬ লক্ষ তালিকা ছিল লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারদের। সেটি পরবর্তীতে কমে দাঁড়ায় ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার। এমনটাই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর জানায়। 

 

পরবর্তীতে সেই সংখ্যাটি আবার বেড়েছে বেশ কিছু নামের গরমিলের কারণে। অবশেষে সেই সংখ্যাটি মোট গিয়ে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১ কোটি ৫০-৫২ লক্ষ, জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যদিও এই সম্পূর্ণ তালিকা আনুমানিক আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হবে বলেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 

 

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তালিকা প্রকাশ ও নথি জমা দেওয়ার কারণে যে নোটিশ পাঠানো ও শুনানি পর্বের মধ্যে সময় দশ দিন সময় দেওয়া হয়েছে, সেই কারণে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের জন্য ও শুনানি পর্বের কাজ সম্পন্ন হতে অতিরিক্ত দশ দিন সময় লাগতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।

 

এদিকে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের ৫৪ হাজার তালিকা প্রকাশ সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক স্তরে বাড়ছে তৎপরতা। কী কারণে এই তালিকা প্রকাশ করা হল এবং কোন ভিত্তিতে এই পরিমাণ সংখ্যার তালিকা প্রকাশ করা হল সেই নিয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

 

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া শুনানির সংখ্যা প্রায় ৮০ লক্ষ। বাকি শুনানির কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করার পূর্ণ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ নিয়ে সময় বর্ধিত হতে পারে আনুমানিক ১০ দিন বলেই কমিশন সূত্রে খবর। বলাবাহুল্য, যেসব ভোটার নির্ধারিত সময়ে হাজির হতে পারছেন না কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জমা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন, তাঁদের আরও একবার সুযোগ দেওয়া হবে।

 

কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, সেই সুযোগেও যদি কেউ উপস্থিত না থাকেন বা সঠিক তথ্য না দেন, কিংবা ঠিকমতো স্থানীয় বিএলও অথবা ERO বা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ না করেন, তাহলে তাঁদের আদালতে আপিল করতে হবে। অন্যথায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারি দপ্তর।

 

অন্যদিকে, রাজ্যজুড়ে বর্তমানে এখনও পর্যন্ত হাইরাইজ বুথের সংখ্যা ৬৯টি নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন, পরবর্তীতে এই সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে বলেই জানা যাচ্ছে কমিশন সূত্রে। নির্বাচন কমিশনের মতে, যেখানে বহু ভোটার একাধিক আবাসনে বসবাস করেন, সেখানে আলাদা করে বুথ নির্ধারণ করা হবে। তবে আবাসনের ভেতরে বুথ তৈরির সুযোগ না থাকলে, বাইরে প্যান্ডেল করে বুথ নির্মাণের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

 

উল্লেখযোগ্যভাবে, শুনানি পর্বের প্রথম ধাপে আনম্যাপ শুনানিতে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ভোটার অনুপস্থিত ছিলেন বলে কমিশন সূত্রে খবর। পরবর্তী পর্যায়েও অনুপস্থিতির হার খুব একটা কম নয় বলেই জানা যাচ্ছে। কমিশনের কড়া বার্তা—যদি সংশ্লিষ্ট ভোটাররা সহযোগিতা বা যোগাযোগ না করেন, তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না, নচেৎ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তে পারে।