আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানি পর্ব। এই আবহেও মৃত্যুমিছিল জারি বাংলায়। আতঙ্কে, অসুস্থ হয়ে একের পর এক মৃত্যু হচ্ছে জেলায় জেলায়। তুমুল হয়রানির শিকার বহু অসুস্থ, বয়স্ক মানুষ। এবার উত্তর ২৪ পরগনায় শুনানির আতঙ্কে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হল। 

 

জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে। ৭১ বছর বয়সি মৃত বৃদ্ধের নাম, অজগর বিশ্বাস। হিঙ্গলগঞ্জের ১২১ নম্বর বুথে ঘটনাটি ঘটেছে। পরিবারের তরফে জানা গেছে, বৃদ্ধের নামে শুনানির নোটিশ আসেনি। কিন্তু তাঁর পরিবারের তিনজন সদস্যকে শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সেই আতঙ্কেই বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েন। 

 

মৃত বৃদ্ধের পরিবার আরও জানিয়েছে, তাঁর স্ত্রী, ছেলে সহ পরিবারের তিনজনের নামে শুনানির নোটিশ এসেছিল। এরপরই আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ। রবিবার রাতে তাঁর বুকে ব্যথা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় ক্রমেই। এরপর ভোররাতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এসআইআর-এর আতঙ্কেই হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবার অভিযোগ জানিয়েছে। 

 

প্রসঙ্গত, এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসআইআর আতঙ্কে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আগরপাড়ায়। প্রদীপ করের মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তবুও তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। তাই নিজেকে শেষ করে দেন। 

 

বীরভূমের ইলামবাজারে ক্ষিতীশ মজুমদার (৯৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলেও তাঁর পরিবারের অভিযোগ ছিল। পানিহাটির প্রদীপ করের পর প্রাণ হারান পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার কোরা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ক্ষিতীশ। বেশ কয়েক মাস আগে বীরভূমে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ইলামবাজারের স্কুলবাগান সুভাষপল্লীতে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আতঙ্কই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

 

এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ের জয়পুর এলাকার যুবক সফিকুল গাজি (৩৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি। তাঁরা স্ত্রী জানান, গত কয়েক দিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন স্বামী। বারবার বলছিলেন, তাঁর কোনও পরিচয়পত্র নেই। ভাই-বাপ কেউ নেই। স্ত্রী বারবার অভয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও গত বুধবার সকালে তিনি নিজেকে শেষ করে দেন। 

 

এই আবহে বহরমপুর থানার অন্তর্গত গান্ধী কলোনী এলাকায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন এক ব্যবসায়ী। সেক্ষেত্রেও পরিবাররে দাবি ছিল, আত্মহত্যার কারণ এসআইআর আতঙ্ক। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ‘দেশ ছাড়তে হবে’ এই আতঙ্কে গত ৪ নভেম্বর কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হন মুর্শিদাবাদের কান্দির মোহন শেখ (৫৫)।