আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর দ্বিতীয় পর্ব অর্থাৎ খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে শুনানি পর্ব চলছে। এই পর্বে খসড়া তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও যাদের তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বা যাঁদের নাম নেই তাঁদের শুনানিতে ডাকছে কমিশন। এই পরিস্থিতে নিজের স্ত্রীকে শুনানির নোটিশ ধরলেন বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। ঘটনাটি তারকেশ্বর পুরসভার ১ নং ওয়ার্ডের ২৪৮ নম্বর বুথের।  নির্বাচন কমিশনের ভুলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধরণ মানুষ দাবি ওই বিএলও-র।

জানা গিয়েছে, তারকেশ্বর পুরসভার ১ নং ওয়ার্ডের ২৪৮ নম্বর বুথের বাসিন্দা রাজশেখর মুজুমদার এসআইআর পর্বে বিএলও-র দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তাঁর স্ত্রী সুস্মিতা মজুমদারকে শুনানির নোটিশ ধরিয়েছেন। শনিবার সুস্মিতাকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। তাঁর বাবা সুব্রত চ্যাটার্জি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। সেই কারণে ২০০২-এর ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় সুস্মিতার দাদু ভুপেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে।১৭৭ নং জাঙ্গিপাড়া বিধানসভা, অংশ নং ১০৪-এ নাম রয়েছে তাঁর। এসআইআর-এ এনামারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার সময় দাদুর নাম দিয়ে ম্যাপিং করান সুস্মিতা। কিন্তু দাদুর সঙ্গে মাত্র ৪০ বছরের ফারাক দেখিয়ে শুনানির নোটিশ ধরানো হয়েছে তাঁকে।

সুস্মিতা জানিয়েছেন, দাদু ভুপেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ২০০২-এর তালিকায় বয়স উল্লেখ্য করা আছে ৮১ বছর। বর্তমানে বেঁচে থাকলে তাঁর বয়স হত প্রায় ১০৫ বছর। তিনি মারা গিয়েছেন ২০১০ সালে। বর্তমানে তাঁর বয়স ৩৭ বছর। সেই হিসেবে বয়সের ফারাক ৬৫ বছর হওয়ার কথা। তাহলে কেন তিনি শুনানির নোটিশ পেলেন? তাঁর দাবি, বিএলও-দের এখানে কোনও গাফিলতি নেই। নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির ফলে ভুগতে হচ্ছে সাধরণ মানুষকে। হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

যদিও বিএলও রাজশেখর মুজুমদার তথা সুস্মিতার স্বামী জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই ভুল। যার ফলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধরণ মানুষ।