আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় এসআইআর চলাকালীন একাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। তার মধ্যে যেমন রয়েছেন সাধারণ নাগরিক তেমনই রয়েছেন বিএলওরাও।
এসআইআর চলাকালীন মৃতদের জন্য এবার বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, প্রত্যেক মৃতের পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে। তবে গোটাটাই বর্তমানে আলোচনার পর্যায়ে।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট ৬১টি পরিবারকে এই সুবিধা দেওয়া হবে এবং পরিবারপিছু একজন করে সদস্য চাকরি পাবেন।
উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে এসআইআর চলাকালীন মৃত্যুর ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছে শাসক দল। অভিযোগ উঠেছে, কমিশনের অপরিকল্পিত কাজ ও অতিরিক্ত চাপই এই মৃত্যুর নেপথ্যে।
এবার এসআইআরে মৃত্যুর ঘটনায় মৃতের পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করল নবান্ন। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার কমিশন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর পর্ব শেষে পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই পশ্চিমবঙ্গে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা যেতেই পারে।
কমিশন সূত্রে খবর, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যে সব তালিকা বার হবে তা দিয়েই নির্বাচন হবে। এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলের মত, ভোটের বাদ্যি বাজিয়েই দিল কমিশন।
রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর)-র খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছিল। শুনানি পর্বে বাদ পড়েছে প্রায় আরও প্রায় ৮ লক্ষ নাম।
এদের মধ্যে শুনানিতে অনুপস্থিত ৬ লক্ষ ২৫ হাজার। চূড়ান্ত তালিকা থেকে কত নাম বাদ যেতে পারে তা এখনও জানায়নি কমিশন। সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
এর পাশাপাশি কমিশনকে স্বস্তি দিয়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশ করতে পারবে কমিশন। সব তালিকা বেরিয়ে গেলে মোট বাদ পড়া ভোটার সংখ্যা হিসেব করা যাবে।
কমিশন জানিয়েছে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনেই সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশের আগেই ভোট ঘোষণা হতে পারে রাজ্যে। এর আগে কমিশন জানিয়েছিল একটি ১২০০ জনের বেশি ভোটার থাকবে না।
সেই অনুযায়ী, বুথ বিন্যাসের পর রাজ্যে ১৩ হাজার ৮১৬টি বুথ বেড়েছিল। আগে বুথ ছিল ৮০ হাজার ৬৮১টি। ফলে রাজ্যে বুথের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৯৪ হাজার ৪৯৭টিতে। কিন্তু মঙ্গলবার কমিশন জানিয়ে দিয়েছে যে, এসআইআর-এর কাজ শেষ না হওয়ায় রাজ্যে বুথবিন্যাস করা হবে না। ৮০ হাজার ৬৮১টি বুথই থাকছে রাজ্যে।
তবে বহুতলের জন্য ৬০-৭০টি অতিরিক্ত বুথ যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে, গত শুক্রবার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ১ মার্চ থেকে রাজ্যে আধাসেনা মোতায়েন করা হবে।
দুই দফায় মোট ৪৮০ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজিপির কাছে এই বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
১ মার্চ রাজ্যে ২৪০ কোম্পানি মোতায়েন করা হবে। প্রথম দফায় ১১০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৫৫ কোম্পানি বিএসএফ, সিআইএসএফ ২১ কোম্পানি, আইটিবিপি ২৭ কোম্পানি ও এসএসবি ২৭ কোম্পানি আসবে।
১০ মার্চ বাকি ২৪০ কোম্পানি মোতায়েন করা হবে। দ্বিতীয় দফায় ১২০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৬৫ কোম্পানি বিএসএফ, ১৬ কোম্পানি সিআইএসএফ, ২০ কোম্পানি টিআইবিপি, ১৯ কোম্পানি এসএসবি রাজ্যে মোতায়েন করা হবে।
