আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবারের পর মঙ্গলবারেও এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠল একাধিক জেলা। মঙ্গলবার সকাল থেকে বাসন্তী, ঢোলাহাট, বারাসতের বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দারা বাসন্তী ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান তুলে দীর্ঘক্ষণ রাস্তা আটকে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।

এর জেরে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় নিত্যযাত্রীদের। বাসন্তী বিডিও অফিস চত্বরে তৈরি করা এসআইআরের শুনানি কেন্দ্রেও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ সামনে এসেছে।

টেবিল-চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাসন্তী থানার পুলিশ ও অতিরিক্ত বাহিনী।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, এসআইআরের শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট নিয়ম বা স্পষ্ট নির্দেশিকা ছাড়াই একাধিকবার হাজিরা দিতে বলা হচ্ছে।

ফলে দিনমজুর, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ কাজ ফেলে শুনানিতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাঁদের রোজগারে।

অনেকের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনও স্পষ্ট সমাধান মিলছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া থাকলেও তা যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়।

শুনানি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সহজ করার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধ না হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নেবে।

রাস্তা অবরোধের জেরে বাসন্তী ও সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। স্কুল পড়ুয়া, অফিসযাত্রী এবং অ্যাম্বুল্যান্সও সমস্যায় পড়ে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দীর্ঘক্ষণ আলোচনা চলে।

পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়, এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে। এই বিষয়ে ক্যানিংয়ের এসডিপিও রামকুমার মণ্ডল জানান, ‘এসআইআরের শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে এলাকাবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সোমবারও রাস্তা অবরোধ হয়েছিল। মঙ্গলবার ফের আন্দোলন শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে।’

অন্যদিকে, এসআইআরের শুনানিতে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতও। বারাসতের গেঞ্জি মিল এলাকায় এদিন রাস্তা অবরোধ করা হয়।

মঙ্গলবার বারাসত-যশোর রোডের উপর কাজীপাড়া এলাকার শতাধিক মানুষ রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ, গ্রামের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষকে এসআইআরের শুনানিতে ডাকা হয়েছে।

তার প্রতিবাদে রাস্তায় শুয়ে পড়ে আন্দোলন করেন বিক্ষোভকারীরা। দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। পরে বারাসত থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, ঢোলাহাটেও শুনানিতে হয়রানির প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা।

অভিযোগ, পরিষ্কার নির্দেশিকা ছাড়াই বারবার শুনানিতে ডেকে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে ফেলা হচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের কথা কাটাকাটি হলেও পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সাময়িকভাবে অবরোধ উঠে যায়।