আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। শনিবার দুপুর থেকে জেলায় জেলায় ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশ শুরু হয়। হার্ড কপি ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের দপ্তরে পৌঁছে গিয়েছে এবং বিকেল ৪টেয় সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন। এরপর অনলাইনেও তালিকা দেখা যাচ্ছে, যদিও প্রথম দিকে ওয়েবসাইটে ধীরগতির সমস্যা ছিল।

এসআইআর শুরুর আগে রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। চূড়ান্ত তালিকায় সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত মোট ৬১ লক্ষ ৭৮ হাজার ২৪৫ জনের নাম বাদ গিয়েছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল, চূড়ান্ত পর্যায়ে আরও কয়েক লক্ষ নাম বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫টি নাম এখনও ‘অ্যাজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। সিইও-র বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিষ্পত্তি করলেই তা তালিকায় আপডেট হবে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বাঁকুড়ায় প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার নাম বাদ পড়েছে। উত্তর কলকাতায় মোট বাদ ৪ লক্ষ ৭ হাজার, যার মধ্যে খসড়ায় ছিল ৩ লক্ষ ৯০ হাজার। নদিয়ায় বাদ প্রায় ৬০ হাজার। দক্ষিণ কলকাতায় তুলনামূলক কম, মাত্র ৩২০৭ জনের নাম বাদ গেছে। আলিপুরদুয়ারে মোট ভোটার ১১ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬৫১; সেখানে ৮০ হাজারের বেশি নাম বিচারাধীন এবং প্রায় ১১ হাজারের কিছু বেশি নাম বাদ। কোচবিহার, রাসবিহারী, কলকাতা বন্দর ও বালিগঞ্জেও কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার নাম বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে।

&t=21s

নন্দীগ্রামে খসড়া তালিকায় বাদ ছিল ১০ হাজার ৫৯৯ জনের নাম, চূড়ান্ত পর্যায়ে আরও ৩৯৫ জন বাদ পড়ায় মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৯৯৪। ভবানীপুর কেন্দ্রে খসড়ায় বাদ গিয়েছিল ৪৪ হাজার ৭৮৭ জনের নাম; চূড়ান্ত তালিকায় অতিরিক্ত বাদ পড়ে মোট সংখ্যা ৪৭ হাজারের বেশি হয়েছে।

তালিকায় নামের পাশে তিন ধরনের স্ট্যাটাস দেখা যাচ্ছে—‘Active’, ‘Adjudication’ (বিচারাধীন) এবং ‘Deleted’। কমিশন স্পষ্ট করেছে, নাম থাকলেই ভোটাধিকার নিশ্চিত নয়; স্ট্যাটাস দেখে নিতে হবে। ভোটাররা অনলাইনে Election Commission of India-র ওয়েবসাইট eci.gov.in এবং রাজ্যের সিইও দপ্তরের ওয়েবসাইট ceowestbengal.wb.gov.in-এ গিয়ে নাম যাচাই করতে পারবেন। অফলাইনে সংশ্লিষ্ট বুথ স্তরের আধিকারিকদের কাছেও হার্ড কপি পাওয়া যাচ্ছে।

সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, ১৩ ধরনের নথিকে প্রামাণ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং টি-গার্ডেন কর্মীদের পরিচয়পত্রও গ্রাহ্য হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় ৫ লক্ষের বেশি সরকারি কর্মী যুক্ত ছিলেন, পাশাপাশি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির তরফে ২ লক্ষের বেশি বিএলও নিয়োগ করা হয়। তিনি স্বীকার করেছেন, এত বড় প্রক্রিয়ায় কিছু ছোটখাটো ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে, যদিও সেগুলি সংশোধনের সুযোগ খোলা রয়েছে।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের  নাম প্রবাসী ভারতীয় হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে বলেও কমিশন জানিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, বিচারাধীন নামগুলির নিষ্পত্তির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে আরও আপডেট প্রকাশ করা হবে।