আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বর্তমানে অন্যতম আলোচিত নাম শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শংকর ঘোষ। তবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিসরে। ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন তিনি। ছাত্র আন্দোলন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই রাজনীতির প্রথম পাঠ নেন শংকর ঘোষ।

২০১৬ সালে সিপিআই(এম)-এর প্রার্থী হিসেবে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। এরপর শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র পরিষদের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। করোনা মহামারির সময় বামফ্রন্ট পরিচালিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হলে প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও পুরনিগম পরিচালনার দায়িত্ব সামলাতে দেখা যায় তাঁকে।

এরপর রাজনীতিতে আসে নয়া মোড়। দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ রাজু বিস্তার সংস্পর্শে এসে বাম শিবির ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন শংকর ঘোষ। বিজেপিতে যোগদানের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হয়ে ওঠেন দলের অন্যতম মুখ।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। সেই নির্বাচনে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বামফ্রন্টের বর্ষীয়ান নেতা অশোক ভট্টাচার্যকে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে পরাজিত করে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন শংকর ঘোষ। বিধানসভায় বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে আসে আরও বড় সাফল্য। শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে লড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী, রাজ্যের দু'বারের মন্ত্রী এবং শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র গৌতম দেবকে প্রায় ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। এই জয়ের পর রাজ্যের মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন শংকর ঘোষ।

আজ ছাত্র রাজনীতির কর্মী থেকে কাউন্সিলর, মেয়র পরিষদের সদস্য, প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য, বিধায়ক, বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক এবং অবশেষে রাজ্যের মন্ত্রী - রাজনীতির প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন শংকর ঘোষ। উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে তাঁর এই উত্থান নিঃসন্দেহে এক উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক অধ্যায়।