আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শান্তনু সেন। এদিন দলের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জিকে একটি চিঠি পাঠিয়ে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
কিন্তু শান্তনু সেন ইস্তফা দিলেন কেন?
চিঠি মারফত তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূল জমানায় আরজি কর, চাকরি দুর্নীতি সহ যে একাধিক ঘটনা ঘটেছে তারপর মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখান করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি কোনওভাবেই মুখপাত্র হিসেবে এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলতে চান না।
চিঠিতে মমতাকে উদ্দেশ্য করে শান্তনু সেন লিখেছেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম লগ্ন থেকে একজন অনুগত সৈনিক হিসেবে কাজ করে গেছি। দল আমায় যখন যেখানে যেভাবে কাজে লাগিয়েছে, নিষ্ঠার সাথে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বিভিন্ন কঠিন সময়ে নিজের মন সায় না দিলেও বহু বিতর্কিত বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ্যে দলের হয়ে লড়াই করেছি, যার জন্য সাধারণ মানুষ অনেক সময় আমাকে অনেক কথা শুনিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলার মানুষ যখন আর জি কর কান্ড, অভয়া কাণ্ড, চাকরি বিক্রি সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ ও দুর্নীতির জন্য আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেই অবস্থায় আমার মন আর কোনোভাবেই মুখপাত্র হিসেবে এগুলোকে সমর্থন করার সম্মতি দিচ্ছে না। তাই মানুষের রায়কে মাথা পেতে নিয়ে আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মুখপাত্র পদ থেকে ইস্তফা দিতে চাইছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দল আমায় যখন যা দায়িত্ব দিয়েছিল আমি নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করে গিয়েছি। এমন বহু ঘটনা যেটাকে কোনওভাবে সমর্থন করা যায় না, মন সায় দেয় না, সাধারণ মানুষ সমর্থন করতে পারে না। তা জেনেও শুধু দলের মুখপত্র হিসাবে ইলেকট্রনিক বা প্রিন্ট মিডিয়ায় সেগুলোকে ডিফেন্ড করতে করতে গিয়েছি।’
শান্তনু সেনের বক্তব্য, ‘বাংলার মানুষ ২০২৬ সালের ৪ মে বিপুল ম্যান্ডেটের মধ্যে দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন যে চাকরি চুরি আরজি কর, কান্ড অভয়া কান্ড সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা রায় দিয়েছেন। তখন সেই মানুষের রায়কে মাথা পেতে নিয়ে হার স্বীকার করা উচিত।’
তিনি জানান, ‘এরপরে আমার মন আর কোনওভাবেই সম্মতি দিচ্ছে না যে এরপরেও এই ধরনের দুর্নীতিগুলোকে সমর্থন করতে হবে।’















