অতীশ সেন: ২০% বোনাসের দাবিতে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত। বৃহস্পতিবার বানারহাট ব্লকের পলাশবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকরা ভারত-ভুটান সড়ক অবরোধ করে সারাদিন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে আমবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকরা ফ্যাক্টরির গেটে জমা হয়ে শ্রমিক নেতাদের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে ২০% বোনাসের দাবিতে আওয়াজ তোলেন। এদিন উভয় বাগানে কাজ বন্ধ ছিল। নাগরাকাটা ব্লকের লুকসান চা বাগানের শ্রমিকরাও একই দাবিতে ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। বিকেল নাগাদ শ্রমিকরা বিক্ষোভ তুলে নিলেও তাঁরা আগামিতে লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

 

 

এদিকে, কলকাতার বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স ভবনে আয়োজিত পঞ্চম দফা বৈঠকে ডুয়ার্সের চা বাগানের বোনাস প্রদান নিয়ে চুক্তি হয়। এতে সর্বোচ্চ ১৬% হারে বোনাস দেওয়ার বিষয়ে চা বাগান মালিকদের সংগঠন সিসিপিএ'র সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিছু চা বাগানের জন্য অপেক্ষাকৃত কম বোনাস ঘোষণা করা হয়। বোনাস ঘোষণার পর থেকে ডুয়ার্সের বিভিন্ন চা বাগানে ২০% বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

 

 

শ্রমিকরা জানান, যারা বোনাস চুক্তিতে রাজি হয়েছেন, তাঁরা কেউ চা শ্রমিক নন। সারা বছর রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে শ্রমিকরা কাজ করে, তাই তাদের ২০% বোনাসের দাবি মানতে হবে। অন্যদিকে, চা বাগান মালিক পক্ষের দাবি, চা শিল্প বর্তমানে সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। অনেক চা বাগান আর্থিক সমস্যায় ভুগছে, চায়ের উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অথচ বিক্রয় মূল্য বাড়েনি। শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে, ফলে বোনাসের হার কমলেও হাতে প্রাপ্ত বোনাস খুব একটা কমেনি। মালিক পক্ষের মতে, সকলের সম্মতিতে বোনাস চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এই বিষয়টি শ্রমিকদের বুঝতে হবে।