মিল্টন সেন: বাংলার প্রসিদ্ধ রথযাত্রাগুলোর মধ্যে অন্যতম হুগলির বলাগড়ের গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রা। সরকারি অনুদান এই রথযাত্রা উৎসবকে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।
হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে লোকে লোকারণ্য রাস্তা ধরে ধরে এগিয়ে চলল রথ। ভক্তরা টেনে নিয়ে চললেন জগন্নাথের সুবিশাল রথ। এখানে সারা বছর জগন্নাথ দেব বৃন্দাবন জিউ মন্দিরে থাকেন।
শুধু মাত্র রথযাত্রার দিন তিনি বেরিয়ে রথে চেপে মাসির বাড়ি যান। জানা যায়, ১৭৪০ সালে এই রথ উৎসব শুরু করে ছিলেন পিতম্বরানন্দ। গুপ্তিপাড়ার রথ বৃন্দাবন জিউ রথ নামে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃদ্ধাবন জিউ মন্দিরে চলে পুজো পাঠ। জগন্নাথদেবকে ভোগ নিবেদন করা হয়। তারপর তিনটি বিগ্রহ রথে নিয়ে যাওয়া হয়। রথে চাপানোর পর সেখানেও একপ্রস্থ পুজো আরতি হয়।
রথ প্রদক্ষিণ করার পড়ে রথে ওঠেন জগন্নাথ। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পর রথের রশিতে টান পরে। বৃহস্পতিবার রথযাত্রা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলাগড়ের বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুমনা সরকার, সদর মহকুমা শাসক, বলাগড়ের বিডিও।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী সুমনা সরকার জানিয়েছেন, ‘গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রা বিখ্যাত। দুর দুরন্ত থেকে বহু মানুষ আসেন। দীর্ঘ সময় ধরে এটা একটা উৎসব হিসেবেই পালিত হয়ে আসছে। তবে এই বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে প্রাপ্ত সরকারি অনুদান রথযাত্রা উৎসবকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।’
এই রথযাত্রা ২৮৬ বছরের প্রাচীন। গুপ্তিপাড়ার রথ বছরের অন্যসময়ে ঐতিহ্যপূর্ণ বৃন্দাবনচন্দ্র মঠের পাশে টিনের চালায় রাখা থাকে। এই রথ চার তলা, উচ্চতা প্রায় ৩৬ ফুট, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ৩৪ ফুট।
আগে বারোটা চূড়া ছিল বর্তমানে ন’টি চূড়া। বৃন্দাবন মন্দির থেকে জগন্নাথ, বলরাম আর সুভদ্রা রথে চড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গোসাঁইগঞ্জ-বড়বাজারে মাসির বাড়ি গিয়ে পৌঁছন।
গুপ্তিপাড়া রথযাত্রার একটি নিজস্ব বিশেষত্ব হল ভান্ডার লুট। উল্টোরথের আগের দিন হয় এই ভান্ডার লুট অনুষ্ঠান। এই রথযাত্রা দেখতে অন্য জেলা থেকেও বহু মানুষ আসেন গুপ্তিপাড়ায়।
ভক্তের ভীরে গমগম করে রথের সড়ক। মেলা বসে। আর সবার জন্য থাকে ভোগের ব্যবস্থা। গুপ্তিপাড়ার রথ বেলা বারোটা এবং বিকেল চারটে নাগাদ টানা হয় এদিন।
ছবি: পার্থ রাহা
















