আজকাল ওয়েবডেস্ক: মমতার হাত ছেড়েছেন। হাত ধরেছেন ঋতব্রতর। ঋতব্রত শিবিরে বড় দায়িত্বও তাঁর কাঁধে। এবার নিশানা থেকে অভিষেককে সরিয়ে, অনুব্রত দুষছেন 'দিদি' মমতাকেই। 

একুশে জুলাইয়ের আগে অভিষেক-আইপ্যাক-মমতা, সবকিছু নিয়ে একেবারে বিস্ফোরক বীরভূমের নেতা। 

রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে জগন্নাথদেবের আরাধনায় অংশ নেন অনুব্রত। বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি (ঋতব্রত পন্থী) অনুব্রত মণ্ডলের কথায় এদিন স্পষ্টভাবে ধরা পড়ল ্মমতা ব্যানার্জির প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অভিমান। একই সঙ্গে আসন্ন একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশকে সামনে রেখে দলীয় সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বোলপুরে নিজের বাড়ির সামনে রথযাত্রা উপলক্ষে এলাকার শিশুদের সঙ্গে রথের দড়ি টানেন। সকলের মঙ্গল কামনা করেন। তারপরেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তাঁর বক্তব্য দ্রুত রাজনৈতিক মোড় নেয়। একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে বলতে গিয়ে অনুব্রত জানান, সম্প্রতি দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, একুশে জুলাই শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক সভা নয়, তৃণমূল কর্মীদের কাছে এটি আবেগ, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতীক। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, 'একসময় বীরভূম থেকে হাজার হাজার কর্মী বাস ও ট্রেনে কলকাতায় যেতেন। স্টেশনজুড়ে কর্মীদের জন্য মুড়ি-আলুর দম, ডিমের ঝোলসহ নানা খাবারের ব্যবস্থা করা হতো। সেই সাংগঠনিক শক্তি ও কর্মীদের আত্মনিবেদনই ছিল দলের আসল সম্পদ।'

এরপরই আইপ্যাককে একহাত নেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, 'আইপ্যাক কখনও কোনও রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলতে পারে না।' তিনি বলেন, ২০০৯, ২০১১, ২০১৪, ২০১৬ কিংবা ২০১৯ সালের নির্বাচনে আইপ্যাকের কোনও ভূমিকা ছিল না। এমনকী ২০২১ সালের নির্বাচনেও তিনি আইপ্যাকের কোনও নির্দেশ মানেননি। নিজের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বুথভিত্তিক যুবক ও মহিলাদের নিয়ে ধারাবাহিক সম্মেলনের মাধ্যমেই বীরভূমে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছিলেন বলে দাবি করেন।   

মমতা জমানার একুশে জুলাই নিয়ে অনুব্রত বলেন, 'হাজার হাজার কর্মী ভোররাত থেকে মুড়ি খেয়ে, অক্লান্ত পরিশ্রম করে সভা সফল করতে কলকাতায় যান। অথচ মঞ্চের সামনের সারিতে জায়গা পান সিনেমা বা সিরিয়ালের তারকারা, যাঁদের অনেকেরই দলীয় সংগঠনে কোনও অবদান নেই। যদিও শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো কয়েকজন নেত্রীর সাংগঠনিক ভূমিকার প্রশংসাও করেন তিনি। অন্যদিকে জেলায় নিজের অনুপস্থিতির সময় সংগঠনের অবস্থা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন অনুব্রত। তাঁর কথায়, আগে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হতো, এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।  

এরপরই মমতার উদ্দেশেই বলেন, 'দলটা আমরা অনেক কষ্ট করে সিপিএমকে সরিয়ে তৈরি করেছি। কিন্তু আজ সেই ত্যাগী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। মমতা ব্যানার্জি চোখে দেখেন না, চোখে শোনেন। আমি অন্য কাউকে দায়ী করব না, মমতা ব্যানার্জিকেই দায়ী করব।' 

পুরসভা ও পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের ইস্তফার ঘটনাকেও ভুল সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন অনুব্রত। তাঁর মতে, 'নির্বাচন যখন খুব দূরে নয়, তখন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে না দিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চালানোই উচিত। তা না হলে উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হবে।'