আজকাল ওয়েবডেস্ক: অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। পুলিশ সূত্রে খবর, নেপাল সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন জাহাঙ্গির খান।
তাঁকে গ্রেপ্তার করে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, নেপাল সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল পুলিশ এবং এসটিএফ।
গত মাসের ২৭ তারিখ থেকেই ফেরার ছিলেন ফলতার স্বঘোষিত 'পুষ্পা' জাহাঙ্গির। জানা গিয়েছে, পালিয়ে গিয়ে ফলতাতেই কোনও এক কাছের লোকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, জাহাঙ্গিরের সেই ;কাছের লোক'-ই এই খবর পুলিশকে দিয়ে দেয়। তবে এসটিএফের কাছে ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত জাহাঙ্গিরকে নেপাল সীমান্ত থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তারপর এসটিএফের তরফে তাঁকে ডায়মন্ড হারবার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জাহাঙ্গিরকে ২৬ মে পর্যন্ত কক্ষাকবচ দিয়েছিলেন। সেই রক্ষাকবচের মেয়াদ শেষ হতেই রাজ্য ছেড়ে পালান জাহাঙ্গির। এমনকী, তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়ে ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম কোর্টেও আবেদন করেছিলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান।
জাহাঙ্গীরের আইনজীবী কিশোর দত্ত প্রশ্ন তোলেন, "পালাবদলের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলাতেই এফআইআর কেন?' অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার পাল্টা বলেন, 'যেই হাইকোর্টে রক্ষাকবচ দেওয়া হল তার পর দিনই জাহাঙ্গির নিজেই জানালেন ভোটে লড়বে না। তাঁর বিরুদ্ধে ছ'টি এফআইআর আছে। ফলতা পুননির্বাচন করার অন্যতম কারণই ছিল এই জাহাঙ্গীর খান।'
মামলা চলাকালীন জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে পুলিশ রিপোর্ট জমা দিতে চাইলে বিচারপতি মন্তব্য করেন, "চাইলে পুলিশের রিপোর্ট জমার আগে এই মামলা তুলে নিতে পারেন মামলাকারী।" তখন জাহাঙ্গীরের আইনজীবী কিশোর দত্ত জানান, তাঁরা মামলা প্রত্যাহার করতে চাননি ৷
এরপর আদালতের পর্যবেক্ষণ, সব মামলাই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এসেবর তদন্ত প্রয়োজন। বিচারপতি বলেছেন, "ঠিক হোক বা ভুল। পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তার মানে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। আপনি আত্মসমর্পণ করুন। তদন্তে সহযোগিতা করুন।" এরপরই জাহাঙ্গির খানের অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষাকবচের মেয়াদ আর বাড়াতে রাজি হয়নি বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চ।















