আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভেঙে দেওয়া হল তৃণমূল আমলে তৈরি হওয়া পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড। শনিবার ডায়মন্ড হারবারে গিয়ে পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই বড় ঘোষণা করন তিনি। 

কেন এই পদক্ষেপ? মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কারণ এতে মুষ্টিমেয় কিছু পুলিশ অফিসার উপকৃত হয়েছেন। ভাল উদ্দেশ্যে গঠিত হলেও পরবর্তীকালে এই পর্ষদ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। " 

শনিবার ডায়মন্ড হারবারে প্রথম জেলায় প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই বৈঠকে ছিলেন মুখ্য়সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি। এছাড়াও ছিলেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ আধিকারিকরা ৷ 

এই বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী একাধিক সিদ্ধান্তের কথাও জানান। এক্ষেত্রে গত বিধানসভা ভোট পরবর্তি হিংসায় যারা আক্রান্ত তারা ফের নতুন করে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী৷ সেই সঙ্গে, তোলাবাজি বা সিন্ডিকেট-রাজ বন্ধে একগুচ্ছ দাওয়াইয়ের কথাও ঘোষণা করেন তিনি ৷

ভোট পরবর্তী হিংসার ক্ষেত্রে চারটি বিষয়ের উপর জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার ৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বিএনএস-এর আইন অনুযায়ী পুলিশ চলবে ৷ গত পাঁচ বছরে যারা আক্রান্ত হয়েছিলেন তাঁরা তথ্য প্রমাণ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হতে পারেন৷ সব ক্ষেত্রে নতুন করে অভিযোগ জানানো যাবে ৷ নতুন করে এফআইআরও দায়ের করতে পারবেন ৷"

মুখ্যমন্ত্রী কথায়, "বাম আমলে পুলিশ-প্রশাসনকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা হত বলে অভিযোগ। বিরোধীদের অভিযোগকে পুলিশ গুরুত্ব দিত না! গ্রামেগঞ্জে বিরোধীদের মুখবন্ধ করতে, শাসকদলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে পুলিশ কাজ করত বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল আমলেও সেই একই পদ্ধতি চলেছে! বলা ভাল আরও বেশি মাত্রায় শাসকদল পুলিশকে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ। বিরোধীরা শাসকদলের বিরুদ্ধে থানায় গেলে অভিযোগ নেওয়া হত না! শুধু তাই নয়, শাসকদলের হয়ে কাজ করার জন্য বিরোধীদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হত!