আজকাল ওয়েবডেস্কঃ বছর দুয়েক আগে উদ্বোধন হয়েও পড়েছিল বনগাঁ থানার আধুনিক ভবন। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে থানা চালুর দাবি জানালেও কোনও এক অজানা কারণে সেই ভবনে পেট্রাপোল থানা স্থানান্তর করা হয়নি৷ অভিযোগ উঠেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধন করা থানা ভবন গ্রহণ করেনি তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার। এবার সরকার বদল হতেই  নতুন সরকার সে বিষয়ে পদক্ষেপ করল৷  শনিবার নতুন থানা ভবনটি চালু হল ৷ সেই উপলক্ষ্যে বন্দরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত হয়ে নতুন থানা ভবনটির সূচনা করেন খাদ্যমন্ত্রীর অশোক কীর্তনীয়া ও বনগাঁর পুলিশ সুপার কলিতা দাশগুপ্ত৷

খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, “আমি এবং জেলার পুলিশ সুপার ভবনটি আগেই গিয়ে দেখে এসেছিলাম ৷ আজ ওই ভবনেই থানার কাজ চালু হয়ে গেল। এই এলাকায় থানার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।"
 

জানা গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের 'নো ম্যানস ল্যান্ড' সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে পেট্রাপোল থানা ৷ থানায় গিয়ে বাসিন্দাদের অভাব অভিযোগ জানাতে বিএসএফের কড়া তল্লাশির মুখে পড়তে হয় ৷ নিরাপত্তার কারণে কেন্দ্রীয় আঁটসাঁট নিরাপত্তা থাকে ওই এলাকায় ৷ নিরাপত্তার কারণে গভীর রাতে কোনও অভিযোগ জানাতে থানায় যেতে চায় না সাধারণ মানুষ। গভীর রাতে থানায় গেলে কোন পরিচিত ব্যক্তিকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হয় ৷ ব্যস্ততার সময় আধার কার্ড কিংবা ভোটার কার্ড নিয়ে যেতে ভুলে গেলে থানার সামনে পর্যন্ত পৌঁছনো যায় না। 'নো মানস ল্যান্ড' সংলগ্ন এলাকায় থানা থাকায় বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও। সে কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও এলাকার ব্যবসায়ীরা পেট্রাপোল থানাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছিল৷

কেন্দ্র সরকার পদক্ষেপ করে ল্যান্ডপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ২০২৩সালে একটি আধুনিক থানার ভবন তৈরি করা হয় যশোর রোডের পাশে ৷ তার উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভবনের উদ্বোধন হলেও সেখানে থানা স্থানান্তরিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার থানার ভবনটি তৈরি করেছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই ভবনের উদ্বোধন করায় তৃণমূল পরিচালিত সরকার সেই ভবন ব্যবহার করেনি। বিজেপির মন্ত্রী উদ্বোধন করা ভবন ব্যবহার করেনি তৃণমূল পরিচালিত সরকার৷ রাজনৈতিক টানাপোড়েনে সমস্যায় রয়েছেন পেট্রোল ব্যবসায়ী-সহ সাধারণ মানুষ৷ সরকার বদল হতেই বাসিন্দারা নতুন থানা ব্যবহারের আবেদন জানিয়েছেন৷ সেই থানা ভবনের উদ্বোধন হওয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা৷

এশিয়ার বৃহত্তম ল্যান্ডফোর্ট পেট্রাপোল বন্দরে দৈনিক আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য চলে ৷ পাশাপাশি দুই দেশের যাত্রী পারাপার হয় ৷ জনবহুল পেট্রাপোল বন্দর ও বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ছয়ঘড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতকে নিয়ে বেশ কয়েক বছর আগে তৈরি হয়েছিল পেট্রাপোল থানা ৷