আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রথমবার সরকারি ভাবে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে এবার রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হচ্ছে। তাঁর কথায়, পরিবর্তনের সরকার ‘নেশন ফার্স্ট’ ও দেশপ্রেমের আদর্শে বিশ্বাসী। সেই ভাবনা থেকেই এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ করা হবে। জেলা, মহকুমা, ব্লক, পৌরসভা, সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক ও যুব সংগঠন-সহ বিভিন্ন স্তরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে থাকবে তিরঙ্গা র্যালি, পদযাত্রা, জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি, দেশাত্মবোধক গান, প্রবন্ধ, কুইজ, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা এবং স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে আলোচনা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে তেরঙ্গার রঙে আলোকিত করা হবে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিল্প সংস্থা, হোটেল ও শপিং মলগুলিকেও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি জানান, ১৪ আগস্ট দুপুর ৩টায় কলকাতায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশ থেকে একটি রাজ্যস্তরের বৃহৎ তিরঙ্গা র্যালি আয়োজন করা হবে। ওই র্যালিতে মন্ত্রিসভার সদস্য, মুখ্য সচিব-সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা অংশ নেবেন। অন্তত ৫০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে সরকার। ইতিমধ্যেই ৩০ হাজারের বেশি মানুষ অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্যের ২২টি জেলা, কলকাতা পুরসভা, ৭টি পুরনিগম, ৪৩টি মহকুমা, ৩৪২টি ব্লক এবং ১২১টি পুরসভায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরকে এই কর্মসূচির নোডাল বিভাগ করা হয়েছে এবং মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
পাশাপাশি তিনি আরও জানান, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়, বরং দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলার একটি জাতীয় উদ্যোগ। তাই দলমত নির্বিশেষে সকল নাগরিককে এতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া, ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে ৭ আগস্ট বিকেল ৪টায় সার্ভে বিল্ডিং থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত একটি পৃথক তিরঙ্গা যাত্রার আয়োজনের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং ভবানীপুরের নাগরিকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি অরাজনৈতিক উদ্যোগ।

















