আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিজেপি প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে, তখন তাঁকে কম কটাক্ষের সম্মুখীন হতে হয়নি। সেই সব কটাক্ষকে দূরে সরিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন আর জি কর ধর্ষণ এবং খুন কাণ্ডে নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। তিনি এখন পানিহাটির বিধায়ক। শপথও নিয়েছেন। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করলেন নবান্নের ১৪ তলায়। সাক্ষাৎ শেষে লিখলেন, “আজ আমি এবং মমতা দুজনেই সর্বহারা।”

রত্না লিখেছেন, “আজ আমি এখন নবান্নের চোদ্দ তলায়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রীর নাম মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী। সততার শক্তি অনেক। শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধরে লড়াই করতে হয়।”

এর পরেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে কটাক্ষ করে তিনি লিখেছেন, “আজ আমি এবং মমতা দুজনেই সর্বহারা। আমি একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছি, মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিজ্ঞায় ব্রতী হয়েছি। আর উনি ওনার চোদ্দ তোলার গদি হারিয়েছেন। অপেক্ষা করুন উনি, ওনার অপরাধী টিম, সবার আরো করুন পরিণতি দেখতে পাবেন। আমার পরিচয় আমি ডা. দেবনাথের গর্বিত মা।”

রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, ক্ষমতায় ফিরলে আরজি কর কাণ্ডে পুনরায় সিবিআই তদন্ত শুরু করা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রচারে একই কথা বলেছিলেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই ৯ আগস্টের অভিশপ্ত রাতে আরজি করে কী হয়েছিল তা জানতে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চ এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেও বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হচ্ছে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের তিন আধিকারিক বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তকে সাসপেন্ড করেছে রাজ্য। 

আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের সিট গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। এর মাথায় থাকবেন সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে লড়েছিলেন রত্না দেবনাথ। পানিহাটি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। রত্না দেবনাথ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯৭৭ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে হারিয়েছেন ২৮ হাজার ৮৩৬ ভোটে। তৃতীয় স্থানে ছিলেন সিপিএমের কলতান দাশগুপ্ত।