আজকাল ওয়েবডেস্ক: একুশে জুলাইয়ের পর থেকেই কালীঘাট তৃণমূলে গুঞ্জন। একদলে কল্যাণের ক্ষোভ, অন্যদিকে কল্যাণের ক্ষোভে সুর মিলিয়ে সাধন কন্যার পোস্ট, তাতেও অস্বস্তি। সেওসবের মাঝেই, বুধবার, সংসদে সম্পূর্ণ বাদল অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড কল্যাণ ব্যানার্জি। মিতালী বাগের অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি। পরপর এসব ঘটনাপ্রবাহ অস্বস্তি বাড়াচ্ছিল কালীঘাটের। মাঝে, সরাসরি মমতার বিরুদ্ধেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কল্যাণ বুধবার সকালেই।
তার মাঝেই ত্রিমূর্তির ছবি। একেবারে সংসদ চত্বরে। সংসদে এদিন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে কল্যাণ ব্যানার্জিকে হাত মেলাতে দেখা যায়। এক ফ্রেমে শমীকের সঙ্গে দেখা যায় কল্যাণ মহুয়াকে। এমন দিনে এই ফ্রেম সামনে আসছে, ঠিক যেদিন সকালে কল্যাণ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরাসরি মমতা, কালীঘাট তৃণমূল নিয়ে। ফলে তিনজনকে এক ফ্রেমে দেখা যাওয়ায়, রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু। যদিও তিনজনের কেউই এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করেননি।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, মমতা-কল্যাণ বিবাদের সূত্রপাত মঙ্গল দুপুরে। আচমকা দেখা যায়, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নেমে যান কল্যাণ। তার আগে কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হয় মমতার সঙ্গে। প্রাথমিকভাবে কল্যাণ সেসব বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। বক্তব্যের বিষয় নিয়ে বিবাদ প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে তিনি নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা বলেছিলেন। তবে পরে তিনি জানান, ঠিক কী ঘটে মঙ্গলের মঞ্চে। কথা বলার সময় নিয়ে, মমতার মন্তব্যে তিনি সকলের সামনে 'অপমানিত' বোধ করেন বলে সাফ জানান। কল্যাণের হুঁশিয়ারি, মমতা দল তৈরি করেছেন, দল শেষ করবেন তিনিই।
নেত্রীর সুসময়ের সময় তাঁকে একাধিকবার দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কল্যাণ। অভিযোগ, সামনে ভিড় দেখে, বহু লোকের জমায়েত দেখে, মমতা পুরনো মেজাজে ফিরে, কল্যাণের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। বুধবার মঙ্গলের ঘটনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই, একেবারে আরজি কর ইস্যু টেনে এনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কল্যাণ ব্যানার্জি। তাঁর অভিযোগ, 'আর জি করের সময়, দলের মধ্যে কোনও নেতা মমতাদিকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরাতে চেয়েছিল। এটা সত্য, এটা বাস্তব। সেদিন আমি আর কুণাল দিদির পাশে ছিল। আর কেউ ছিল না।'
















