আজকাল ওয়েবডেস্ক: টানা ভারী বর্ষণ। পাশাপাশি ভুটান পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নেমে আসছে। এর জেরে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন আলিপুরদুয়ারের বিস্তীর্ণ এলাকায়। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে একের পর এক গ্রাম। বহু বাড়িতে জল ঢুকে পড়ায় কার্যত বিপর্যস্ত জনজীবন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার রাত থেকেই পাহাড় ও সমতলে শুরু হয় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত। এরপর থেকে একটানা বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিস্তা, তোর্সা, মহানন্দা, লিস, ঘিস, রায়ডাক, সংকোশ ও জলঢাকা-সহ একাধিক নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইন্দো-ভুটান সীমান্তবর্তী জয়গাঁ, হাসিমারা, কালচিনি, হ্যামিল্টনগঞ্জ ও বানারহাট এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ। বহু রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘরে জল ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে শনিবার থেকেই মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হয়। নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, ভুটানের ফুন্টশোলিং সংলগ্ন এলাকাতেও প্রবল বৃষ্টির জেরে জল জমে যাওয়ার খবর মিলেছে। ফুন্টশোলিং গেট সংলগ্ন এলাকাও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ভুটানের পাহাড়ি নদীগুলির অতিরিক্ত জল নেমে আসায় তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আলিপুরদুয়ারের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে।

প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েকদিনও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নদীর ধারে না যাওয়া এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।