সিঙ্গুর থেকে টাটাদের ন্যানো কারখানা বিদায় নেওয়ার পর বাংলার বুকে যে শিল্প খরা তৈরি হয়েছিল, তা এক দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত হয়ে রয়ে গিয়েছিল এ রাজ্যের অর্থনীতিতে। তৎকালীন বাম জমানায় যে বিপুল কর্মসংস্থানের স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, মমতা ব্যানার্জির তীব্র আন্দোলনের জেরে তা ভেস্তে যায়। যদিও জমি রক্ষার সেই আন্দোলনই তাঁকে নবান্নের ক্ষমতায় বসিয়েছিল।
2
10
তবে সম্প্রতি রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার এবার সিঙ্গুরের সেই পুরনো ক্ষত নিরাময়ে কোমর বেঁধে নেমেছে। গত শুক্রবার বিভিন্ন বণিকসভাকে সঙ্গে নিয়ে আয়োজিত একটি হাইপ্রোফাইল বাণিজ্য সম্মেলনে মিলেছে তারই বড়সড় ইঙ্গিত।
3
10
সেই সম্মেলন থেকেই রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এক খুশির খবর শোনালেন। তিনি জানান, বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে রাজ্যে ইতিমধ্যেই মোট ১৬০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।
4
10
বাংলায় শিল্পের এই নতুন সূর্যোদয় নিয়ে প্রবল আশাবাদী অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন, বাংলা আবার স্বমহিমায়, সগর্বে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
5
10
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা সঞ্জীব স্যান্যাল। বাঙালির ব্যবসা-বাণিজ্য করা নিয়ে সমাজে যে একটা নেতিবাচক ধারণা বা মজা ওড়ানোর প্রবণতা আছে, তার কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
6
10
তাঁর মতে, অতীতে ভুল রাজনীতি এবং ভুল অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কারণেই বাংলার এত বড় ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক সংস্কৃতি ধুলোয় মিশে গিয়েছিল। বাঙালিরা যে ব্যবসা করতে পারে না, এই ধারণাটা একেবারেই ভিত্তিহীন। সত্যি বলতে, বাঙালিরা ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করতে চায় না, অথচ বাণিজ্য আসলে বাঙালির মজ্জাতেই রয়েছে।
7
10
নতুন সরকারের এই আমল বদলের বাজারে দেশের একাধিক বড় বড় বেসরকারি সংস্থাও বাংলায় পা রাখতে মুখিয়ে রয়েছে। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যাল, পিয়ারলেস গ্রুপ এবং এল অ্যান্ড টি-র মতো নামী কর্পোরেট সংস্থাগুলি এ রাজ্যে বড়সড় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।
8
10
নবান্ন সূত্রের খবর, আগামী দুর্গাপুজোর আগেই হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস রাজ্যে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকার একটি বিশাল প্ল্যান্ট গড়ে তুলতে চলেছে। অন্যদিকে, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে এল অ্যান্ড টি একটি ৩০ মেগাওয়াটের মেগা ডেটা সেন্টার তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এ রাজ্যের প্রায় ২৫,০০০ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের ঘরে বসেই কাজের এক বিপুল সুযোগ তৈরি হবে।
9
10
স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও এক বিরাট লগ্নির ঘোষণা করেছে পিয়ারলেস গ্রুপ অফ হসপিটাল। তারা মোট ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে, যার মধ্যে ৪০০ কোটি টাকাই খরচ করা হবে ক্যানসার চিকিৎসার পরিকাঠামো উন্নয়নে। পাশাপাশি বারাসত জেলা হাসপাতালের আধুনিকীকরণের জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে ১৫০ কোটি টাকা।
10
10
এর বাইরেও ২০২৯ সালের মধ্যে আবাসন শিল্প এবং আধুনিক শপিং মল তৈরির জন্য তারা আরও ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নিয়ে যে নতুন দিশা দেখানো হয়েছিল, তার অংশীদার হতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বখ্যাত সংস্থা পিডব্লুসি। সব মিলিয়ে, ঝিমিয়ে পড়া বাংলার শিল্পমহলে এখন নতুন করে চাঙ্গা হওয়ার হাওয়া।