আজকাল ওয়েবডেস্ক: নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন যে, এই প্রক্রিয়া "অযথা তাড়াহুড়ো" করে পরিচালিত হচ্ছে যা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে বিপন্ন করতে পারে, বিশেষ করে কয়েক মাসের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচনের সময়।
বোস্টন থেকে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন জোর দিয়ে বলেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো প্রক্রিয়া যত্ন সহকারে এবং পর্যাপ্ত সময়ের নিয়ে পরিচালিত হওয়া উচিত। তিনি বিশ্বাস করেন যে, বাংলার এসআইআর-এর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময়ের বিষয়টিই "অনুপস্থিত"। তিনি বলেছেন, "পর্যাপ্ত সময় ও সাবধানতার সঙ্গে ভোটার তালিকার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা একটি ভাল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ, কিন্তু এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে সেটা হচ্ছে না।"
নোবেলজয়ীর কথায়, "এসআইআর তাড়াহুড়ো করে করা হচ্ছে, ভোটাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার প্রমাণের জন্য নথি জমা দেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই। এটা ভোটারদের প্রতি অন্য়ায় আচরণ এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেও অন্যায্য।"
বাংলায় এসআইআর-এর সময় নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অমর্ত্য সেন বলেন, এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত আধিকারিকদের মধ্যেও সময়ের চাপ স্পষ্ট লক্ষ্য করা গিয়েছে। তিনি বলেছেন, "কখনও কখনও, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের নিজেরাই পর্যাপ্ত সময়ের অভাব বোধ করেছেন।"
নিজের শুনানির প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন অমর্ত্য সেন। তিনি বলেন, "আমি শান্তিনিকেতনে বড় হয়েছি। ওটা আমার নির্বাচনী এলাকা। বছর বছর ধরে ওখান থেকেই ভোট দিচ্ছি। আমার যাবতীয় সরকারি নথিতেও ওই ঠিকানাই দেওয়া। কিন্তু তারপরেও এসআইআর-এ আমার প্রয়াত মা এবং আমার বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলা হল।"
বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদের মতে ডকুমেন্টেশন জনিত অসুবিধাগুলি গ্রামীণ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয়দের কাছে বেশ চ্যালেঞ্জের। তাঁর কথায়, "গ্রামীণ ভারতে জন্মগ্রহণকারী অনেক ভারতীয় নাগরিকের মতো (আমি তখন শান্তিনিকেতন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছি), আমার জন্ম সার্টিফিকেট নেই। তাও ভোট দেওয়ার যোগ্যতা প্রমাণের জন্য আমাকে আরও কাগজপত্র উপস্থাপন করতে হয়েছিল।"
অবশ্য অমর্ত্য সেনের সমস্যা মিটেছে। কিন্তু তাঁর মতো সমস্যায় থাকা হাজার হাজার ভারতীয়দের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নোবেলজয়ী। তিনি বলেন, "আমার অনেক বিশ্বস্ত বন্ধু আছেন। আমার বন্ধুরাই আমাকে কমিশনের কঠোর বন্ধ দরজা খুলতে সাহায্য করেছেন। তবে আমি অন্যদের নিয়ে চিন্তিত ছিলাম যাঁরা এখনও তা করতে পারেনি।"
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এসআইআর শুনানিতে ডাক পড়েছিল অমর্ত্য সেনের। নোবেলজয়ীর সঙ্গে তাঁর মায়ের বয়সের পার্থক্য নিয়ে "যৌক্তিক অসঙ্গতি" প্রকাশ পাওয়ার পর অমর্ত্য সেনকে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছিল।
এসআইআর বাংলায় কোনও দলকে সুবিধা দিতে পারে? জবাবে নোবেলজয়ী বলেন যে, এটা তাঁর পক্ষে স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তিনি বলেছেন, "আমি নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ নই, তাই আমি নিশ্চিতভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছি না। যাঁরা আরও বেশি জানেন তাঁরা আমাকে বলেছেন যে, এতে ঘুরিয়ে বিজেপির লাভবান হবে। যদিও আমি জানি না এটা সত্যি কিনা, তবে আসল কথা হল ইনির্বাচন কমিশনের উচিত ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া এবং আমাদের গর্বিত গণতন্ত্রকে অপ্রয়োজনীয় ভুল করতে বাধ্য করা উচিত নয়, তা সে যেই লাভবান হোক না কেন।"
