আজকাল ওয়েবডেস্ক: নীপা আতঙ্ক রাজ্যে। ইতিমধ্যে সংক্রমিত দু'জন। হাসপাতালে ভর্তি তাঁরা। সংক্রমণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই আতঙ্ক রাজ্য জুড়ে। ইতিমধ্যে ওই দুই সংক্রমিতের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা করা হয়েছে।

তার মধ্যেই সামনে এসেছে নীপা সংক্রমিত ব্যক্তি, উপসর্গ থাকা ব্যক্তি এবং তাঁদের সংস্পর্শে আসা স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসকদের জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের জারি করা গাইডলাইন। 

১৪ জানুয়ারি ওই গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়। গাইডলাইনে ঠিক কী বলা হয়েছে?

প্রথমেই উল্লিখিত, পাঁচ চিকিৎসকের একটি টিম এই গাইড লাইন তৈরি করেছেন। 

নীপার উপসর্গ থাকা ব্যক্তির রক্ত, ফ্লুইড, হাঁচি-কাশির ড্রপলেট, ফ্লুইড সংস্পর্শে আসা  যে কোনও ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলক ২১ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 নীপা সংক্রমিত কোনও ব্যক্তির সঙ্গে সীমাবদ্ধ স্থানে কেউ থাকলে, তাঁকেও থাকতে হবে কোয়ারেন্টাইনে। যাঁরা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিকে নিত্যদিন চিকিৎসক কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্বারা পরীক্ষা করাতে হবে।

উপসর্গ দেখা দিলে, ওই ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন থেকে সরিয়ে সোজা হাসপাতালে, আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হবে। 

 

নীপায় আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসায়, দেখভালে যেসব চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন, তাঁদের যথেষ্ট সুরক্ষা অবলম্বন করতে হবে।

নীপা সংক্রমিত, উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের ফ্লুইড, রক্তের সংস্পর্শে আসা ছাড়াও, সেসব ব্যক্তিদের সংস্পর্শে, তাঁদের জামা-কাপড়ের সংস্পর্শে যেসব ব্যক্তি এসেছেন, তাঁদেরও দেখা হওয়ার সময় থেকে ২১ দিন পর্যন্ত নিজেদের কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে।

 

প্রতিদিন সেইসব ব্যক্তিদের আপডেট নেওয়া হবে ফোন করে। 

 

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, এই নিপা ভাইরাস পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক ব্যবস্থা ছিল না রাজ্যে। সেই কারণে রাজ্য কেন্দ্র সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সহযোগিতায় আইসিএমআর অর্থাৎ পুনে NIV থেকে সরাসরি এই বিশেষ নিপা ভাইরাস পরীক্ষা করার বিশেষজ্ঞদের টিম-সহ বাসটি কলকাতায় বুধবার এসে পৌঁছেছে।

 

এই বাসটি কলকাতা বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দায়িত্ব থাকবে। রাজ্যের যেকোনও জেলাগুলিতে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিপা ভাইরাসের আক্রান্তের তথ্য এলে তৎক্ষণাৎ সেই জেলাতে পৌঁছবে এই বিশেষ বাসটি। এমনটাই জানিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর।

 

অন্যদিকে, নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা সংখ্যাটা ৪৮ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ জন। বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা চিফ মেডিক্যাল অফিসার অফ হেল্থ (সিএমওএইচ) ডাঃ জয়রাম হেমব্রম। 

বুধবার তিনি বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪৮ জনের 'কন্টাক্ট ট্রেসিং' করে 'লাইন লিস্ট'টা তৈরি করা হয়েছিল সেটা আজকে আরও বেড়েছে। সব মিলিয়ে এই পর্যন্ত সংখ্যাটা যা জানা যাচ্ছে সেটা হল ৮২। যার অর্থ এঁরা রোগীর সংস্পর্শে  বা হাসপাতালে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২জনের সিম্পটম বা লক্ষন দেখা দিয়েছিল।"