আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিপা ভাইরাস মোকাবিলায় এবার কেন্দ্রর সঙ্গে যৌথভাবে মিলিত হয়ে কাজ করতে শুরু করল রাজ্য। কলকাতা এবার এসে পৌঁছল আইসিএমআর-এর একটি বাস, যার মধ্যে থাকছে নিপা ভাইরাস পরীক্ষা করার সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এই বাসটি সরাসরি পুনে থেকে এসে পৌঁছেছে কলকাতায় এবং এটি থাকবে কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে।

 

এই বাসটি মূলত রাজ্যের বিভিন্ন জেলাগুলিতে ঘুরে বেড়াবে যেখানেই নিপা ভাইরাসের কোনওরকম সন্ধান পাওয়া যাবে, সরাসরি সেই জেলাতে বা সেই স্থানে পৌঁছে যাবে  আইসিএমআর-এর বাসটি। যার ভেতরে থাকছে পিপিইকিট-সহ একাধিক নিপা ভাইরাস পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয় সামগ্রী। সেখানে উপস্থিত থাকছেন একাধিক চিকিৎসক এবং একাধিক বিশেষজ্ঞদের টিম, এমনটাই স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে খবর। 

উল্লেখযোগ্য বিষয়, পশ্চিমবঙ্গে এই নিপা ভাইরাস পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক ব্যবস্থা ছিল না। সেই কারণে রাজ্য কেন্দ্র সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সহযোগিতায় আইসিএমআর অর্থাৎ পুনে NIV থেকে সরাসরি এই বিশেষ নিপা ভাইরাস পরীক্ষা করার বিশেষজ্ঞদের টিম-সহ বাসটি কলকাতায় গতকাল এসে পৌঁছেছে।

 

এই বাসটি কলকাতা বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দায়িত্ব থাকবে। রাজ্যের যেকোনও জেলাগুলিতে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিপা ভাইরাসের আক্রান্তের তথ্য এলে তৎক্ষণাৎ সেই জেলাতে পৌঁছবে এই বিশেষ বাসটি। এমনটাই জানিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর।

 

অন্যদিকে, নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা সংখ্যাটা ৪৮ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ জন। বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা চিফ মেডিক্যাল অফিসার অফ হেল্থ (সিএমওএইচ) ডাঃ জয়রাম হেমব্রম। 

বুধবার তিনি বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪৮ জনের 'কন্টাক্ট ট্রেসিং' করে 'লাইন লিস্ট'টা তৈরি করা হয়েছিল সেটা আজকে আরও বেড়েছে। সব মিলিয়ে এই পর্যন্ত সংখ্যাটা যা জানা যাচ্ছে সেটা হল ৮২। যার অর্থ এঁরা রোগীর সংস্পর্শে  বা হাসপাতালে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২জনের সিম্পটম বা লক্ষন দেখা দিয়েছিল।"

তিনি বলেন, "এঁদের মধ্যে একজন হাউস স্টাফ।দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়  বাড়ি। বর্ধমান হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানেই ভর্তি আছেন। আজকে ভালো আছেন। এছাড়া যে নার্সিং স্টাফের একটু সিম্পটম দেখা দিয়েছিল সেও এখন ভালো আছেন। এঁরা রোগীকে পরিষেবা দেওয়ার সময় 'এক্সপোজড' হয়েছেন। যার অর্থ 'ক্লোজ কন্টাক্ট'-এ ছিলেন।" পূর্ব বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, ওই নার্সিং স্টাফকে তাঁর বাড়িতে কোয়ারেন্টিন-এ রাখা হয়েছে এবং আপাতত তিনি ভালো আছেন।