আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুভাষগ্রামের কোদালিয়ায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পৈতৃক ভিটেতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হল দেশনায়কের ১৩০তম জন্মজয়ন্তী। দিনভর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এই অবিস্মরণীয় নেতাকে। ভোর থেকেই পৈতৃক ভিটে চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় মানুষ, ছাত্রছাত্রী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা।
সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর নেতাজীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে নেতাজির আদর্শ, আপোষহীন দেশপ্রেম এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর অগ্নিযুগের নেতৃত্বের কথা।
অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে অংশ নেয় বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের পড়ুয়ারা। দেশাত্মবোধক গান, নৃত্যনাট্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয় নেতাজির জীবনসংগ্রাম, আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন এবং বিদেশে বসে স্বাধীনতার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস। ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা।
এদিন পৈতৃক ভিটে প্রাঙ্গণকে সাজিয়ে তোলা হয় আলোকসজ্জা, ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা ও নেতাজির ছবি দিয়ে। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় একটি আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, যেখানে নেতাজির জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তুলে ধরা হয়। বহু মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে সন্তানদের সামনে নেতাজির বীরত্বগাথা ও আদর্শের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বক্তারা বলেন, বর্তমান সমাজজীবনে নেতাজির আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আত্মনির্ভরতা, শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের যে বার্তা নেতাজি দিয়েছিলেন, তা আজও পথ দেখায় জাতিকে। বিশেষ করে যুবসমাজকে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়।
সারাদিনের অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। নেতাজির ১৩০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সুভাষগ্রামের কোদালিয়ায় পৈতৃক ভিটে যেন পরিণত হয়েছিল দেশপ্রেম, ইতিহাস ও জাতীয় চেতনার এক উজ্জ্বল মিলনস্থলে।
প্রতিবছরের মতো এবছরও অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কৃষ্টি সংসদ। সংস্থার সম্পাদক পল্লব কুমার দাস বলেন, “আজকের দিনটিকে ঘিরে বাঙালির আবেগ চূড়ান্ত। নেতাজি শুধু ইতিহাসের অংশ নন, তিনি আজও আমাদের অনুপ্রেরণা।”
