আজকাল ওয়েবডেস্ক: বীরভূমের দুবরাজপুরে ভোটার তালিকায় ভিনরাজ্যের ভোটারের নাম উঠে আসাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। দুবরাজপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় মহারাষ্ট্রের বিজেপি জেলা পরিষদ নির্বাচনের এক প্রার্থীর নাম থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
যাঁর নাম নিয়ে বিতর্ক, তিনি উজ্জ্বলা বুরুঙ্গলে। তিনি মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার বাসিন্দা এবং মহারাষ্ট্রের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নথিভুক্ত রয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালে মহারাষ্ট্রের জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হিসেবেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, পশ্চিমবঙ্গের ২০২৫ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বীরভূম জেলার দুবরাজপুর বিধানসভার ১৯৪ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম পাওয়া গিয়েছে।
এই ঘটনার আরও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, ভোটার তালিকা সংশোধনের এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় উজ্জ্বলা বুরুঙ্গলে একটি এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁকে শুনানির জন্য নোটিশও পাঠানো হয়। যদিও শুনানিতে স্বয়ং উজ্জ্বলা উপস্থিত হননি। তাঁর স্বামী আপ্পা শঙ্কর বুরুঙ্গলে হাজিরা দেন বলে জানা গিয়েছে।
পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের আসল বাড়ি মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে। প্রায় ১৭ বছর আগে সোনার ব্যবসার উদ্দেশ্যে তাঁরা দুবরাজপুরে আসেন। সেই সময় উজ্জ্বলা বুরুঙ্গলে মহারাষ্ট্রের ভোটার ছিলেন। কিন্তু পরে দুবরাজপুরে থাকার সূত্রে এখানেও ভোটার কার্ড তৈরি করা হয়। এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় সেই কারণেই শুনানির ডাক আসে বলে দাবি পরিবারের। বর্তমানে বড় ছেলের পরীক্ষা ও ভোট সংক্রান্ত কাজের জন্য উজ্জ্বলা বুরুঙ্গলে মহারাষ্ট্রেই রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাংলার ভোটার তালিকায় পরিকল্পিতভাবে ভুয়ো ভোটার ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। তাদের বক্তব্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই বিষয় নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ব্যালটের মাধ্যমে বাংলায় জিততে না পেরে অন্য রাজ্য থেকে ভোটার এনে ভোটার তালিকায় কারচুপি করার চেষ্টা করছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে সম্পূর্ণভাবে তদন্তসাপেক্ষ বলে দাবি করা হয়েছে। দুবরাজপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা বলেন, কীভাবে একজন ব্যক্তির নাম দু’টি রাজ্যের ভোটার তালিকায় থাকতে পারে, তা নির্বাচন কমিশন খতিয়ে দেখবে। তিনি জানান, বিষয়টি আইন অনুযায়ী তদন্ত হওয়া উচিত এবং তবেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।
এই প্রসঙ্গে বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বিজেপির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তাঁর দাবি, বাংলার ভোটার তালিকায় ভিনরাজ্যের ভোটার ঢুকিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
