আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে ক্রমাগত  বাংলা ভাষাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের তরফ থেকে একটি স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তৈরি করা হল। সোমবার এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার কুমার সানী রাজ। ৪ সদস্যের এই  এসটিএফ-এর মাথায় থাকছেন মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়াটার্স) মজিদ ইকবাল খান। এসটিএফ-এর এর অন্য সদস্যরা হলেন এসডিপিও (ভরতপুর) বরুণ বৈদ্য, আইসি (কন্ট্রোল রুম) গৌতম তালুকদার এবং ওসি (ওয়াচ)  সোমা বল। 

প্রসঙ্গত, গত প্রায় দু'মাস ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মুর্শিদাবাদের বাংলা ভাষাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ওড়িশার সম্বলপুরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে বাংলা ভাষায় কথা বলার 'অপরাধে' স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হন সুতির বাসিন্দা জুয়েল রানা নামে এক যুবক।
এরপরেও আরও একাধিক রাজ্য থেকে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলার বিভিন্ন খবর সামনে এসেছে। 

সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের পালামৌ জেলায় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয় বেলডাঙার  বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ নামে এক ব্যক্তির। সেই ঘটনার পরেও বিহারের একাধিক জায়গা থেকে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বেশ কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। 

বারবার পশ্চিমবঙ্গের বাইরে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার এবং শনিবার উত্তাল হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানা এলাকা। পরিযায়ী শ্রমিক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় বেলডাঙায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করে রাখেন। 

এই ঘটনার পরই সক্রিয় হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ প্রশাসন। ভিন রাজ্যে গিয়ে কোনও রকম বিপদে পড়লে পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্যের জন্য পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে ইতিমধ্যে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। আর এবার মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার তরফ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্যার্থে তৈরি করা হলো একটি স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। 

পুলিশ সুপার তাঁর নির্দেশিকায় জানিয়েছেন, টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা নিয়মিত নিজেদের মধ্যে বৈঠক করবেন এবং এসটিএফ-এর শীর্ষে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মজিদ ইকবাল খানকে নিয়মিত সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে অবগত করবেন। 

পুলিশ সুপারের নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই পুলিশ এবং প্রশাসনের তরফ থেকে যে হেল্পলাইন নম্বরগুলো চালু করা হয়েছে সেখানে পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের কোনও সমস্যা বা অভিযোগের কথা জানালে এসটিএফ-এর সদস্যরা সেগুলোর সমাধানের চেষ্টা করবেন এবং এসটিএফ -এর শীর্ষে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে অবগত করবেন।