শ্রেয়সী পাল: তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে হঠাৎই পদত্যাগ করলেন নাড়ুগোপাল মুখার্জি। বৃহস্পতিবার দুপুরে সকলকে চমকে দিয়ে কাউন্সিলরদের বৈঠকের পর নাড়ুগোপাল মুখার্জি নিজের পদত্যাগ পত্র মহকুমা শাসক সমীরণ বারিককে জমা দেন। সূত্রের খবর, নাড়ুগোপাল মুখার্জি চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যাওয়ায় এবার বহরমপুর পুরসভার প্রশাসক হিসেবে সমীরণ বারিক বসতে চলেছেন। ২৮ শাসন বিশিষ্ট বহরমপুর পুরসভায় গত নির্বাচনে নাড়ুগোপাল মুখার্জি ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হয়েছিলেন। বর্তমানে বহরমপুর পুরসভায় তৃণমূলের ২৩ জন কাউন্সিলর এবং কংগ্রেসের ৪ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। কংগ্রেসের ১ কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে জিয়াগঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত জিয়াগঞ্জ- আজিমগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষের গ্রেপ্তারির কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রাজ্যের অন্যতম 'হাই প্রোফাইল' বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জির পদত্যাগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতি তথা জেলার রাজনৈতিক মহলে।
২০২১ এবং ২০২৬- এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে নাড়ুগোপাল মুখার্জি বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছিলেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র জয়ী হয়েছেন, নাড়ুগোপাল মুখার্জি তৃতীয় স্থানে ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী ক্রমাগত নাড়ুগোপাল মুখার্জিকে আক্রমণ করে চলেছিলেন। নাড়ুগোপল মুখার্জি চেয়ারম্যান পদে থাকাকালীন পুরসভায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে অথচ কোনও এক অজ্ঞাত কারণে বিজেপি তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না। অধীরবাবুর আরও অভিযোগ, চেয়ারম্যান পদে থাকার সুযোগ নিয়ে নাড়ুগোপাল মুখার্জি নিজের আত্মীয় পরিজনদেরকে বিভিন্ন 'কন্ট্রাক্ট' দিয়েছেন এবং নিজে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির আরও অভিযোগ, নাড়ুগোপাল মুখার্জি নিজের পদের অপব্যবহার করে যে টাকা তুলেছেন তা তিনি দুবাইতে পাচার করে দিয়েছেন। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর বহরমপুর পুরসভার অস্থায়ী কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছিলেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
যদিও চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নাড়ুগোপাল মুখার্জি বলেন ,"পুরসভাতে কাজ করতে পারছিলাম না। তাই পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যেই আমি নিজের পদত্যাগ পত্র মহকুমা শাসকের কাছে জমা দিয়েছি। "
অন্যদিকে তৃণমূলের একটি সূত্রের খবর, নাড়ুগোপাল মুখার্জিকে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বিজেপির তরফ থেকে কয়েকদিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা পার হওয়ার আগেই নাড়ুগোপাল মুখার্জি পদত্যাগ করলেন। তিনি যদি তাঁর পদ থেকে না সরে দাঁড়াতেন তাহলে তাঁকেও দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করতো।
প্রসঙ্গত , কিছুদিন আগে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বেলডাঙ্গা পুরসভার চেয়ারম্যান অনুরাধা হাজরাও পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে নাড়ুগোপাল মুখার্জির পদত্যাগের কিছুক্ষণের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত মুর্শিদাবাদ পুরসভার চেয়ারম্যানের ইন্দ্রজিৎ ধরও নিজের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। পদত্যাগ পত্রের চিঠি তিনি লালবাগের মহকুমা শাসককে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
ইন্দ্রজিতবাবু বলেন," শারীরিক কারণে আমি চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। মহকুমা শাসক, প্রশাসক হিসেবে পুরসভার দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। তবে আগামী দিন আমি একজন সাধারণ কাউন্সিলর হিসেবে নাগরিকদেরকে পুর পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করব ।" জেলা রাজনৈতিক মহলের অনুমান, নাড়ুগোপাল মুখার্জির ও ইন্দ্রজিৎ ধরের দেখানো পথ অনুসরণ করে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলার বাকি তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরসভার চেয়ারম্যানরা পদত্যাগ করতে চলেছেন।















