মিল্টন সেন

সাংসদ তহবিলের টাকায় কেনা অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে তার সন্ধান মিলল। তবে পরিষেবা দেওয়ার বদলে সেটিকে পড়ে থাকতে দেখা গেল জরাজীর্ণ অবস্থায়, একটি গাছের তলায় জঙ্গলের মধ্যে।

ঘটনাকে ঘিরে নদিয়ার নয়, হুগলির পাণ্ডুয়ার শিখিরা চাঁপ্তা এলাকায় তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। গ্রামবাসীরা অভিযোগ জানিয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে। প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান।

পাণ্ডুয়া শিখিরা চাঁপ্তা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষের ব্যবহারের জন্য তৎকালীন সাংসদ রত্না দে নাগ সাংসদ তহবিলের অর্থে একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছিলেন। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন।

গ্রামবাসীদের দাবি, প্রথম কয়েক বছর অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়মিত পরিষেবা দিয়েছে। এলাকার বহু মানুষ জরুরি সময়ে এর সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু কয়েক বছর আগে আচমকাই অ্যাম্বুলেন্সটি এলাকা থেকে গায়েব হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে বেশি সরব হতে পারেননি।

সরকার পরিবর্তনের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ শিখিরা চাঁপ্তা গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে জমায়েত হন। তাঁরা প্রধানের কাছে অভিযোগ জানিয়ে জানতে চান, সরকারি অর্থে কেনা মানুষের পরিষেবার জন্য দেওয়া অ্যাম্বুলেন্স কোথায় গেল।

স্থানীয় বাসিন্দা অমিত কুমার মাঝি, মানবী ঘোষ ও সুদীপ ঘোষদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েতের অ্যাম্বুলেন্সটির কোনও ব্যবহার নেই। অচল অবস্থায় হরিদাসপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত জঙ্গলে সেটিকে ফেলে রাখা হয়েছে। তাঁদের দাবি, অ্যাম্বুলেন্সটি পুনরায় মেরামত করে চালু করা হলে পঞ্চায়েত এলাকার একাধিক গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন।

এই বিষয়ে শিখিরা চাঁপ্তা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পিয়ালী ব্যানার্জি জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সটি সম্পর্কে কোনও তথ্য পাননি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ শুনে তিনি শুক্রবার প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাবেন।

পঞ্চায়েত প্রধান আরও বলেন, যদি কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি সম্পত্তি ব্যবহার করে থাকে, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন পাণ্ডুয়ার বিধায়ক তুষার মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, মানুষের পরিষেবার জন্য কেনা অ্যাম্বুলেন্স বেআইনিভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। কেন একটি সরকারি অর্থে কেনা অ্যাম্বুলেন্স জঙ্গলে পড়ে থাকবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

বিধায়কের আরও অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার মানুষের পরিষেবার বদলে বিজ্ঞাপনের রাজনীতি করেছে। ভোটের সময়ে অ্যাম্বুলেন্সের প্রচার করা হলেও বাস্তবে সেটির কোনও খোঁজ ছিল না। সরকার পরিবর্তনের পরই নিখোঁজ অ্যাম্বুলেন্সের সন্ধান মিলছে বলে দাবি করেছেন তিনি।