অতীশ সেন, ডুয়ার্স: মাঝরাত পর্যন্ত অপেক্ষার পর মৃত শাবকের দেহ ছেড়ে দলের কাছে ফিরে গেল মা হাতি। শনিবার ভোরে ডুয়ার্সের বানারহাট ব্লকের কারবালা চা বাগানে একটি হস্তিশাবকের মৃত্যু হয়েছিল। চা বাগানের সংকীর্ণ নিকাশি নালায় উল্টো হয়ে বেকায়দায় দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার কারণেই শাবকটির মৃত্যু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নিকাশি নালা থেকে জীবিত অবস্থায় তুলতে না পারায় মা হাতিটি শাবকটিকে সেখানেই মাটি চাপা দিয়ে সমাধিস্থ করার চেষ্টা করে। এরপর থেকেই মৃত শাবকের দেহ আগলে ঘটনাস্থলে সারাদিন দাঁড়িয়ে ছিল মা হাতি। 

 

মৃতদেহ উদ্ধার করার চেষ্টা করতে গিয়ে হাতির হামলার মুখেও পড়েছিলেন বনকর্মীরা। তাঁদের একটি গাড়ি উল্টেও দিয়েছিল শাবক হারা মা। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় বনকর্মীরা মৃতদেহটি উদ্ধার করতে পারেননি। সন্ধ্যার পর মা হাতিটি মৃত শাবকের দেহ নালা থেকে টেনে তোলে। এরপর সেই দেহটি নিয়ে জঙ্গলের দিকে রওনাও দেয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় একশো মিটার দূর পর্যন্ত দেহটি টেনে নিয়ে রাস্তার উপর রেখে সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। প্রায় ভোর রাতে দেহটি ছেড়ে মা হাতিটি কারবালা চা বাগান সংলগ্ন রেতির জঙ্গলে অপেক্ষারত দলের কাছে ফিরে যায়। সকাল থেকেই হস্তিশাবকের দেহ দেখতে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমান। পুলিশ এবং বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। 

 

স্থানীয় বাসিন্দা খাদু ওরাওঁ বলেন, মা হাতিটি সারাদিন তার বাচ্চার পাশেই দাঁড়িয়েছিল। রাতে মৃত শাবকের দেহ টেনে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। বাচ্চাটি কিছুটা বড় হওয়ায় সে পারেনি। কিছুটা টেনে নিয়ে রাস্তার উপর ফেলে অনেক্ষণ অপেক্ষা করে। এরপর হাতিটি জঙ্গলে দলের কাছে ফিরে যায়। স্থানীয় শিবরাজ গোয়ালা বলেন, মা হাতিটি তার শাবকে খুঁজতে আবারও আসতে পারে। কাছেই লোকালয় রয়েছে। বাচ্চাকে না পেলে সে লোকালয়েও হামলা চালাতে পারে। সেই কারণেই হয়তো বনকর্মীরা দেহটি উদ্ধার করছেন না। তারাও হাতির দলের দূরে চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। বনদপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পরই মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।