মিল্টন সেন, হুগলি: রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর জেলা জুড়ে পদত্যাগের হিড়িক পড়ে গেছে। শুরুতে চন্দননগর পুর নিগমে পদত্যাগ করেন ডেপুটি মেয়র। পরে মেয়র সহ ৩০ কাউন্সিলর পদত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে ভদ্রেশ্বর পুরসভায় পদত্যাগ করেন চেয়ারম্যান সহ একাধিক কাউন্সিলর। গ্রেপ্তার হন ভাইস চেয়ারম্যান। এবার একসঙ্গে পদত্যাগ করলেন বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান।
মঙ্গলবার চুঁচুড়ার সদর মহকুমা শাসকের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান তাপস মুখার্জী এবং ভাইস চেয়ারম্যান শিল্পী চ্যাটার্জী। পদত্যাগের পর চেয়ারম্যান তাপস মুখার্জি বলেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়ে গেছে। ফলে গোটা পশ্চিম বাংলার পরিস্থিতি পাল্টেছে। পুরসভায় টাকা নেই। তাই তাঁর পুরসভা চালাতে সমস্যা হচ্ছে। সেই কারণে চেয়ারম্যানের পথ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
সম্ভবত ২২ তারিখে নতুন সরকারের বাজেট হবে, বাজেটের আগে এক পয়সাও পুরসভাকে দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে পুরসভা চালানোর মতো টাকা পয়সা নেই। মানুষকে পরিষেবা দিতে পারবেন না। তাই পদে থেকে লাভ নেই। এই প্রসঙ্গে সপ্তগ্রামের বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ বলেছেন, উল্টো পাল্টা যুক্তি দেখলে হবে না। ব্যাপক দুর্নীতি। হিসেব দিতে পারছে না। তাই পদত্যাগ। কেউ পার পাবে না। ওই পুরসভা পরিচালনা করত মাফিয়ারা। সর্বত্র দুর্নীতিতে ভরা। যেখানে হাত দেওয়া যাচ্ছে সেখানেই দুর্নীতি। বেআইনি নির্মাণ, পুকুর ভরাট, বেআইনি নিয়োগ থেকে পোর্ট ট্রাস্টের সরকারি জমি প্লটিং করে বিক্রি, সবই হয়ে ওই এলাকায়। পথশ্রী প্রকল্পের ২৭ কোটি টাকা এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ১২ কোটি টাকার কোনও হিসেব নেই।
বিধায়কের অভিযোগ, পুরসভার একাধিক অস্থায়ী কর্মীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের পুরসভায় নাম আছে। আবার বিটিপিএস এবং টোল প্লাজায় কর্মী হিসেবেও নাম রয়েছে। কিন্তু তারা কাজ করে এলাকার মাফিয়া দাদাদের হয়ে। পোর্ট ট্রাস্টের জমিতে রেস্টুরেন্ট বানিয়ে ব্যবসা চলছে। পুরসভার স্ক্র্যাপ বিক্রির টেন্ডার নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন স্বরাজ বাবু। বলেছেন পুকুর ভরাট করে সেখানে ফার্নিচারের শোরুম বানিয়ে ব্যবসা করছিলেন কাউন্সিলর খোদ। সম্প্রতি সেই কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। তাঁর কাছে প্রমাণ আছে আবাস যোজনার টাকা উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছয়নি।
বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মারফত সেই টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পুরসভার নিজস্ব ফান্ডে সাত লক্ষ টাকা ছিল। কারণ সেই টাকা ভোট প্রচার আর খাওয়া দাওয়া করে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ তিনমাস পেনশন দেওয়া হয়নি। পার্কিং থেকে টাকা তোলে, টোটো স্ট্যান্ড, অটো স্ট্যান্ড থেকে তোলা আদায় করত এই পুরসভা। এমনকি মানুষের দেওয়া ট্যাক্সের টাকাও পকেটস্থ করা হয়েছে।
স্বরাজ বাবুর স্পষ্ট বক্তব্য এ মাফিয়ারাজ চলতে দেওয়া যাবে না। শুধু পুরসভা নয় মাফিয়া রাজ চলতি সপ্তগ্রাম পঞ্চায়েত এবং মগড়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েতেও। প্রত্যেকটি দুর্নীতি চিহ্নিত করে তিনি পুরসভায় নোটিশ পাঠিয়েছেন। হিসেব নেই। তাই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পদত্যাগ করেছে।















