মনিরুল হক, কোচবিহার: ফের উত্তপ্ত দিনহাটা। শুক্রবার গভীর রাতে একের পর এক বোমাবাজি, তারপর আগুনের লেলিহান শিখা। ভয়াবহ এই ঘটনার সাক্ষী থাকল পুটিমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের খারিজা বালাকুড়া এলাকা। অভিযোগ, ওইদিন গভীর রাতে প্রাক্তন প্রধান তথা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা রফিকুল হক এবং তাঁর স্ত্রী, বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্য শাহানারা পারভিনের বাড়িতে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। একই রাতে ওই এলাকার আরও এক পঞ্চায়েত সদস্য জাকির হোসেনের বাড়িতেও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরপর দুই জনপ্রতিনিধির বাড়িতে হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিনহাটার রাজনৈতিক মহল।

স্থানীয় সূত্রে খবর, রাতে আচমকাই রফিকুল হকের বাড়ি ঘিরে ফেলে একদল দুষ্কৃতী। তারপর শুরু হয় এলোপাথাড়ি বোমাবাজি। বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। আতঙ্কে বাড়ির আশপাশের মানুষ দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরের ভিতর আশ্রয় নেন। অভিযোগ, বোমাবাজির পরই দুষ্কৃতীরা বাড়ির ভিতরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির বিভিন্ন অংশে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে গোটা বাড়ি।

ঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নথিপত্র-সহ বহু মূল্যবান সামগ্রী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভয়ে কেউ সামনে এগিয়ে যেতে পারেননি। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকলকে।

একই রাতে পুটিমারি এলাকার আরও এক পঞ্চায়েত সদস্য জাকির হোসেনের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। ফলে গোটা ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এটা কি শুধুই ব্যক্তিগত শত্রুতা, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই রফিকুল হক ও তাঁর স্ত্রী এলাকায় থাকতেন না। ফলে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক সমীকরণ, পুরনো রেষারেষি এবং সংগঠনভিত্তিক দ্বন্দ্ব সবকিছুকেই এখন এই ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেখা হচ্ছে।

রফিকুল হক দীর্ঘদিন ধরেই পুটিমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের পরিচিত মুখ। তিনি প্রাক্তন প্রধান হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর স্ত্রী শাহানারা পারভিন বর্তমানে পঞ্চায়েত সদস্য। ফলে পরপর এই হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক তাৎপর্য খুঁজতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহল। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই জনপ্রতিনিধিদের টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ততক্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। দুষ্কৃতীদের খোঁজে এলাকায় তল্লাশি চলছে। পুটিমারি জুড়ে এখন আতঙ্ক, চাপা উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর। দিনহাটার মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় এই জোড়া হামলা আগামী দিনে নতুন করে উত্তাপ বাড়ায় কিনা, এখন সেদিকেই নজর প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক মহল সবার।