মিল্টন সেন,হুগলি: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগের বিধায়ক কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সেখানেই তিনি ঘোষণা করেন বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব। শিল্পের তাদের কাছে অগ্রাধিকার পাবে। 

এ দিন চুঁচুড়ার সায়রা মোড়ে দলীয় কার্যালয়ের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "বড় বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তাঁদের বলব, শিল্প আমরা চাই,আগে যাই হয়ে থাক বর্তমান সরকার শিল্প বান্ধব। শিল্পের জন্য পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। প্রতিদিন কোনও না কোনও শিল্পপতি আসছেন। তাঁরা কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। আমার সাথেও কথা হচ্ছে।  

স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, "আমরা খুবই কৃতজ্ঞ আমাদের পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই আর্থিক বছরে ৭০ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্র রাজ্যকে কোনও না কোনও প্রকল্পে দিয়েছেন। এটা কীভাবে ম্যানেজ করতে হবে তা দেখা হচ্ছে। আজকেও নানান ইনসেন্টিভ পলিসি গঠন করা হচ্ছে। বিশেষত এআই, ইনফরমেশন টেকনোলজি, ডেটা সেন্টার যাতে ভারতবর্ষে আসে। এবং যেগুলো আসবে তার কিছু অংশ পশ্চিমবঙ্গে আসা উচিত। এটা নিয়ে আমাদের কি করনীয় এবং কেন্দ্র এ ব্যাপারে কি বলছে সেটা নিয়ে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী আজকে কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতা রমনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।" 

অন্নপূর্ণা যোজনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "অন্নপূর্ণা যোজনা আর লক্ষীর ভান্ডার মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। আগে লক্ষীর ভান্ডার যেই আবেদন করত সেই পেত। কোটিপতিও যদি আবেদন করত, সেও সেই টাকা পেত। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে কিন্তু সেটা হবে না। আশা করছি যে ধরনের সমস্যাগুলো আসছিল সেগুলিও আমরা খুব শীঘ্রই মেটাতে পারব।"

পুরুলিয়া ইস্পাত কারখানা প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রী বলেছেন, "ইস্পাত যে কারখানাগুলো হচ্ছে তার কতগুলি সুবিধা রয়েছে। আমরা যদি বিদ্যুৎ দিতে পারি এবং একটা সুষ্ঠ পরিবেশ দিতে পারি তবে শিল্পপতিরা আকৃষ্ট হবেন। তাঁরা কী চাইছেন, একটা সুস্থ পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা যাতে ঠিক থাকে, তোলাবাজি যাতে না হয় এই ধরনের একটা পরিবেশে তারা কাজ করতে চাইছেন। আমাদের দায়িত্ব হল এই সমস্ত পরিবেশ গড়ে তোলা। শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক হলে তারা চাইছেন প্রশিক্ষিত শ্রমিক। অনেক বাঙালি আছে বাংলার বাইরে। তাদের ফেরত আনাটাও একটা কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। যারা ইনভেস্ট করছেন তাদের স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আগামী দিনে আরও বেশি পরিমাণে শিল্প গড়ে উঠবে। ইতিমধ্যেই একটা দুটো বড় ইনভেস্টমেন্ট এর কথা চলছে। আরও বড় বিনিয়োগ আসতে কিছুটা সময় লাগবে। কারণ তারা পুরো বিষয়টা দেখে নিতে চাইছেন। এই রাজ্যে ভাল শিল্প ছিল না। সেগুলো যাতে আবার ফিরে আসে সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।"

সিঙ্গুর এবং ডানলপ প্রসঙ্গে বলেন, "আশা করি সেই শিল্প আবার গড়ে উঠবে। ডানলপ বলতে আগের সেই কারখানা নয়, অন্য কিছু হতে পারে। অত বড় একটা এলাকা একটা রাষ্ট্রীয় সম্পদ। অন্যদিকে আপনারা জানেন সিঙ্গুরের ব্যাপারটা জমির কারণে পুরো গুবলেট হয়ে গিয়েছিল। এই ধরনের যে সমস্ত অ্যাসেট জমি রয়েছে সেগুলো কে আবার কাজে লাগানো এবং উৎপাদনশীল করে তোলা আমাদের দায়িত্ব। কীভাবে করা যায় সেটা দেখে নেওয়া হচ্ছে।"

শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, আগে যা হয়েছে সেটা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এখন কিছুটা সুবিধাজনক জায়গাতে রয়েছে রাজ্য। তিনি বলেন, "আমাদের কাজ হচ্ছে তাঁদেরকে বলা দেখুন শিল্প আমরা চাই, ব্যবসা চাই। পশ্চিমবঙ্গে এখন যে সরকার এনেছেন তারা হচ্ছে প্রো ইন্ডাস্ট্রি।"