আজকাল ওয়েবডেস্ক: শহর কলকাতায় ফের ভূমিকম্প। কেঁপে উঠল গোটা শহর।  শুক্রবার দুপুর ১ টা ২২ মিনিটে হঠাৎই কেঁপে উঠল গোটা শহর। শুধু কলকাতা নয়, কেঁপে উঠেছে গোটা জেলাও। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শহরবাসী। জেলার বিভিন্ন প্রান্তেও হয়েছে এই ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। এই কম্পনের জেরে কলকাতার বিভিন্ন অফিস থেকে মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তাদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।

 

শুক্রবার দুপুরে হওয়া এই কম্পনের জেরে সমস্ত বহুতল থেকে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। এদিন কলকাতা সহ একাধিক জেলাতে প্রবল কম্পন অনুভূত হয়। সিকিমে গত ২০ দিনে ২৫ বার ভূমিকম্প হয়েছে। তারই রেশ এবার কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে পড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কম্পনের উৎসস্থল বাংলাদেশের খুলনা জেলা। সেখান থেকেই পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা রাজ্যের বিভিন্ন অংশে এই কম্পন অনুভূত হয়।

কলকাতা সহ জেলার বিভিন্ন অংশেও এই কম্পনের জেরে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। বিভিন্ন অফিস ছেড়ে সাধারণ মানুষ পথে বেরিয়ে আসেন। খানিক পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে বিগত কয়েকদিনে রাজ্যে যেভাবে ভূমিকম্প দেখা যাচ্ছে তাকে হেলাফেলা করতে পারছেন না আবহবিদরাও। কম্পনের উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে। 

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল স্কুলও | আতঙ্ক পড়ুয়াদের ৷ দ্রুত পড়ুয়াদের ক্লাস থেকে খোলা জায়গায় বার করে দিল শিক্ষকেরা৷ ঠাকুরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনা । শুক্রবার দুপুরে হঠাৎই কম্পন অনুভূত হয় বনগাঁ মহকুমা শহর রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ৷  প্রাথমিকভাবে কোনও ক্ষয়ক্ষতির হিসেব পাওয়া যায়নি প্রশাসনের মাধ্যমে ৷  স্কুল চলাকালীন হঠাৎই ভবনটি কাঁপতে থাকে ৷ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পড়ুয়াদের মধ্যে ৷ 

বৃহস্পতিবার সকালেও ভূমিকম্প অনুভূত হয় সিকিম-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায়। যদিও মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে।  হতাহতের এবং ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গের মধ্যে বিশেষত দার্জিলিং, কালিম্পংয়ে বহু পর্যটক রয়েছেন। ভূমিকম্প টের পেতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে পর্যটকদের মধ্যে। 

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরবঙ্গে যে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৪.৮। সিকিমের পাশাপাশি এদিন দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়িতে কম্পন অনুভূত হয়েছে। সিকিমে ভূমিকম্পের পরেই উত্তরবঙ্গে এক ঘণ্টার মধ্যে দু'বার কম্পন অনুভূত হয়েছে। 

দিন কয়েক আগেই সিকিমে দফায় দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সেবার ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল রাবাংলা থেকে আট কিলোমিটার দক্ষিণে। সে সময় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ১৩ বার কম্পন অনুভূত হয়েছিল। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই একাধিকবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে সিকিম। গত ২০ দিনে ৫০-এর বেশি কম্পন অনুভূত হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিংয়ে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল সিকিম। সেদিন শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়িতেও মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছিল। সেবার গ্যাংটক, পেলিংয়ে জোরালো ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। 

 

ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি সূত্রে জানা গিয়েছিল, এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল সিকিমের গ্যালসিং-এর ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৫।  বুধবার রাতে বাংলাদেশেও মৃদু ভূমিকম্পন অনুভূত হয়েছিল। সেই কম্পনের তীব্রতা ছিল ৫.১। তবে কোনও ধরণের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওযা যায়নি। হতাহতের খবর নেই।