আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই ক্রমশ রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাকফুটে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যজুড়ে একের পর এক পুরসভায় ভাঙন ধরছে একদিকে।
অন্যদিকে, একাধিক গ্রেপ্তারিরও খবর মিলেছে। আবার, আর একদিকে সোমবার দলবিরোধী কাজের জন্য দুই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
এরপরেই ফেসবুক লাইভে এসে দলের ‘গদ্দার’-দের একহাত নিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এমনকী, দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করার পর তাঁরা যে এলাকা থেকে জিতেছেন সেখানকার মানুষের কাছে ক্ষমাও চাইলেন তিনি।
তাঁর সাফ বক্তব্য, ‘যারা গদ্দারি করছে মানুষের ভোট নিয়ে, যাদের আপনারা জিতিয়েছেন তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি হাত জোড় করে।’ দলের অন্যান্য নেতৃত্বদের উদ্দেশ্যেও এদিন বিশেষ বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী।
তিনি বলেন, ‘ক্ষণিকের জন্য কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না কারোর কথায়। আর সিদ্ধান্ত দিচ্ছে কে? এমন একজন, যে আগে সিপিএম দল করত, নীতিহীন একজন। আমাদের ভুল হয়েছে তাঁকে টিকিট দেওয়া, পায়ে পড়েছিল এসে।’
২০১৭ সালে ঋতব্রকে বহিষ্কার করেছিল সিপিআইএম। তারপর ২০২০ সালে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়ে ভোটে জিতেছিলেন ঋতব্রত।
কিন্তু তার কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁকে বহিষ্কার করল দল। সেই প্রসঙ্গে মমতা এদিন বলেন, ‘সিপিএম সেদিন ঠিক করেছিল। অন্তত এই একটা ক্ষেত্রে তাদের আমি অ্যাপ্রিশিয়েট করি, ওকে তাড়িয়ে দিয়ে। তা সত্ত্বেও আমরা তাঁকে দু’বার সংসদে জিতিয়েছি। এবার হাওড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি হাত জোড় করে। আমার আপনাদের সঙ্গে এরা বিশ্বাসঘাতকতা করল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এদের আমরা ক্ষমা করিনি, দু’জনকে আমরা অলরেডি দল থেকে এক্সপেল করে দিয়েছি।’ সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের যোগদান নিয়েও মুখ খোলেন তিনি।
বলেন, ‘কেউ রোজ গিয়ে বিজেপিকে মিট করছে। বিজেপির কথা মতো সবাইকে ডেকে ভয় দেখাচ্ছে। এর মধ্যে একজন সাংসদও আছেন। তিনি আবার অন্যান্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। অপরাধটা কী? না তিনি তাঁর ছেলের টিকিট চেয়েছিলেন। শুধু কি এমপি, এমএলএ-দের ছেলেমেয়েরাই টিকিট পাবে? আর কেউ পাবে না?’















