মিল্টন সেন, হুগলি: হয়রানি সাধারণের পেছন ছাড়ছে না। এস আই আর নিয়ে সমস্যা অব্যাহত। তার মধ্যেই বেড়েছে গ্যাসের দাম। গৃহস্থালির গ্যাসের দাম বাড়ায় টান পড়েছে মধ্যবিত্তের হেঁসেলে। বাণিজ্যিক গ্যাসের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির ছাপ পড়েছে গণ পরিবহন ব্যবস্থায়। বিপদে পরেছেন অটো থেকে হোটেল রেস্তোরাঁ মালিকরা। চরম হয়রানির মুখে যাত্রী থেকে গ্রাহক সকলেই।
এশিয়াতে এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি। তার জেরে ভারতে বাড়ছে গ্যাসের দাম। এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়েছে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দাম। পাশাপাশি বেশ অনেকটাই বেড়েছেও বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। আর তার জেরে ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন অটো চালকরা। ক্রমশই কমছে রুটে চলা অটোর সংখ্যা। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে এক ঝটকায় সেই সংখ্যও কমে অর্ধেক হয়েছে। হঠাৎ রাস্তায় অটো কমে যাওয়াতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে যাত্রীদের। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে লাইনে।
চুঁচুড়ার প্রাণকেন্দ্র ঘড়ির মোড়। জেলার সদর স্থান বলা হয়ে থাকে এই অঞ্চলকে। কারণ এইখানে একাধিক প্রশাসনিক দপ্তর থেকে আদালতে, হাসপাতাল সবই অবস্থিত। তাই হাজার হাজার মানুষের প্রতিদিন যাতায়াত রয়েছে। চুঁচুড়া থেকে ত্রিবেণী, চুঁচুড়া স্টেশন, ডানলপ ও হুগলি সহ একাধিক রুটের অটো চলে এখান থেকে।
এখন গ্যাসের দাম বাড়ায় কমছে রুটে থাকা অটোর সংখ্যা। এরকম চলতে থাকলে কিভাবে পেট চলবে তা বুঝে উঠতে পারছেন না অটোচালকরা। অটোচালক সৌমেন মালাকার বলেছেন, যাত্রী রয়েছে কিন্তু গাড়ি চালাতে পারা যাচ্ছে না। গ্যাসের দাম বাড়ায় একাধিক গাড়ি বসে গেছে। আগে কেজি প্রতি গ্যাসের দাম ছিল ৮০ টাকা। এখন গ্যাসের দাম বাড়ায় সেই দাম দাঁড়িয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।
যেহেতু সব জায়গায় গ্যাসের পাম্প নেই। অটো চালক সুশান্ত মজুমদার বলেন, হঠাৎ করে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে তিনি সমস্যায় পরেছেন। চন্দননগরে গ্যাস ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেই। গ্যাস ব্ল্যাক হচ্ছে। ফলে সমস্যা বেড়েছে। এই রকম চলতে থাকলে অটো চালকরা একত্রিত হয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
সকাল থেকে বন্ধ থাকতে দেখা গেছে শহরের একাধিক হোটেল রেস্তোরাঁ। কয়েকটা খোলা থাকলেও রান্নার কাজ চলছে কয়লার উনুনে। কারণ দামে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে অমিল গ্যাস। ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে।
