আজকাল ওয়েবডেস্ক: গ্যাস সিলিন্ডার থেকে জল বেরোনোর অভিযোগ উঠলে হুগলির পান্ডুয়ার খন্যানে। আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটে নাগাদ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পোলবার সংগ্রামপুর এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন নাথ নামে এক গ্রাহকের বারিতে খন্যান ইন্ডিয়ান গ্যাসের কাউন্টার থেকে গ্যাসের সিলিন্ডার দিয়ে এসেছিল। 

তাঁর অভিযোগ, গত ১৭ তারিখে তিনি এই গ্যাসটি বুক করেছিলেন। রান্না করতে গিয়ে বার বার উনুন নিভে যাচ্ছে দেখে সিলিন্ডারটি পুনরায় খতিয়ে দেখেন এবং দেখা যায় ওই সিলিন্ডার থেকে জল বের হচ্ছে। এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। 

তড়িঘড়ি ওই ব্যক্তি গ্যাস সিলেন্ডার নিয়ে খন্যানের ইন্ডিয়ান গ্যাসের অফিসে আসলে তাঁকে গ্যাসের সিলিন্ডারটি পাল্টে দেয় ওই গ্যাস কাউন্টার থেকে এবং নিরঞ্জন মণ্ডল নামে ওই গ্রাহক গ্যাস কাউন্টারে লিখিত অভিযোগ জমা করেন এ বিষয়ে। 

নিরঞ্জনের ভাগ্নে সজল মণ্ডল বলেন, "এমনিতেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সমস্যার পর গ্যাস পেয়েছি। তারপরে সিলিন্ডার থেকে জল বের হচ্ছে। এটা খুবই চিন্তার বিষয়।" যদিও ওই গ্যাস কাউন্টারের মেকানিক সুমন্ত ঘোষ এ বিষয়ে এদিন বলেন, "সিলেন্ডারটি চেকিংয়ের জন্য গোডাউনে পাঠানো হয়েছে, ওই গ্রাহককে নতুন গ্যাস দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।" 

মধ্য এশিয়ায় চলা যুদ্ধের আবহে দেশে রান্নার গ্যাসের জোগানে টান। বিশ্বব্যাপী আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র যে কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ করছে, মঙ্গলবার বোম্বে হাই কোর্টের নাগপুর বেঞ্চকে তা জানাল মোদি সরকার। একই সঙ্গে সরকারি এই প্রচেষ্টার ওপর আদালতকে আস্থা রাখারও আর্জি জানানো হয়েছে। 

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা এক বিবৃতিতে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদা বাড়ার কারণে সরকার ইতিমধ্যেই এলপিজি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তাঁর মতে, চলতি মাসের ৫ মার্চ থেকে এলপিজি উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে যাতে বাড়তি চাহিদা সহজেই মেটানো যায়। 

সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে দেশের কয়েকটি শহরে এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এর জেরে অনেক এলাকায় গ্যাস এজেন্সির সামনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। অনেকেই গ্যাস বুকিং ও ডেলিভারির সময় নিয়ে জানতে এজেন্সিগুলিতে যোগাযোগ করছেন। এই পরিস্থিতিতেই সরকার পরিস্থিতি পরিষ্কার করতে সামনে এসেছে।

মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পরিবহন ও ডিস্ট্রিবিউশন চেইন স্বাভাবিক রাখতে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। ফলে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহে বড় ধরনের কোনও সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।