আজকাল ওয়েবডেস্ক: চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় অবশেষে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন ভাড়াটে শার্প শ্যুটারকে। খুনের পর থেকেই ফেরার ছিল এই আততায়ীরা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘাতকদের পালানোর পথে ব্যবহার করা গাড়ির 'ফাসট্যাগ' (FASTag) ট্র্যাক করেই তাদের হদিশ পায় পুলিশ। মূলত টোল প্লাজাগুলোতে গাড়ির যাতায়াতের সময় ও লোকেশন থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায় অপরাধীদের গতিপথ। সেই সূত্র ধরেই হানা দিয়ে উত্তরপ্রদেশ থেকে এই তিনজনকে জালে তোলা হয়। এই গ্রেপ্তারির ফলে চন্দ্রনাথ খুনের নেপথ্যে থাকা আসল মোটিভ এবং আর কে বা কারা জড়িত, তা দ্রুত সামনে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ।
সূত্র মারফত জানা গেছে, রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে থাকা বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) রবিবার উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের দুটি জায়গা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হচ্ছে। তবে এই গ্রেপ্তারি নিয়ে রাজ্য পুলিশ এখনও সরকারিভাবে কোনো বয়ান দেয়নি।
বিহার-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তের বক্সার থেকে ময়াঙ্ক শর্মা, ভিকি সিং এবং রাজবীর সিং-সহ আরও দু'জনকে আটক করা হয়। রবিবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভবানী ভবনে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং দীর্ঘ জেরার পর ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবারই তাদের আদালতে পেশ করার কথা।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, চন্দ্রনাথকে হত্যার আগে ময়াঙ্ক শর্মাই গোটা এলাকা রেইকি (তদারকি) করেছিল। গত ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে নিজের বাড়ির মাত্র ২০০ মিটার দূরে রথকে খুন করা হয়। তিনি নিজাম প্যালেস থেকে ফিরছিলেন— যেখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁর অফিস ছিল।
ঘটনাস্থলেই রথের মৃত্যু হয়, আর তাঁর এসইউভি-র চালক বুদ্ধদেব বেরাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খুনের রাতে হামলাকারীরা প্রায় সাত কিলোমিটার ধরে চন্দ্রনাথের গাড়িটি তাড়া করেছিল।
যে নিখুঁত পরিকল্পনা এবং ক্ষিপ্রতার সাথে এই হামলা চালানো হয়েছে, তাতে পুলিশের সন্দেহ ছিল যে এর পেছনে ভিনরাজ্যের পেশাদার শার্পশুটারদের হাত রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই সিট-এর সদস্যরা উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ওড়িশায় পাড়ি দিয়েছিলেন।
শনিবারই পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু। সোমবারই পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে তাঁর একটি বৈঠক করার কথা রয়েছে। এদিকে পুলিশ ইতিমধ্যেই টোল প্লাজা থেকে পেমেন্টের ই-রসিদ উদ্ধার করেছে।
















