আজকাল ওয়েবডেস্ক: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের দিন সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে কোনও সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এই বিষয়ে জানিয়েছে রাজ্য।

নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, কারও উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। কোনও সরকারি কর্মী উপস্থিত না হলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। সরকারের এই বিবৃতির পর এবার যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মীদের যোগ দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

সরকারি কর্মীদের উদ্দেশ্যেও বিশেষ বার্তা দেন তিনি। এদিন এক ভিডিও বার্তায় বিকাশরঞ্জন বলেন, ‘যারা যথার্থই মনে করেন যে এই সমস্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়াটার পিছনে কোনোরকম যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই, শুধুমাত্র এই একটা যোগ অনুষ্ঠানে যোগ করলে পরেই স্বাস্থ্যের খুব উন্নতি হয়, এসব যারা ভাবেন না তারা নিজেরা স্বাধীন চিন্তায় অংশগ্রহণ নাও করতে পারেন। তাতে কিচ্ছু যায় আসবে না।’

বিকাশরঞ্জনের বক্তব্য, এই অনুষ্ঠানের জন্য কলকাতা শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা রেড রোডকে বিগত সাত দিন, আট দিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে অত্যন্ত ‘অযৌক্তিকভাবে, অবৈজ্ঞানিকভাবে।’

এদিন ভিডিও বার্তায় বিকাশরঞ্জন বলেন, ‘ওদের কাছে কোনও অনুষ্ঠানের সাফল্য হচ্ছে লোকজন ভিড় করা। তার জন্য রাজ্য সরকারের যিনি মুখ্য আধিকারিক, তিনি নির্দেশ জারি করেছিলেন। সেই নির্দেশের মূল বিষয়বস্তুই ছিল সকলকে এমনকী, যারা কন্ট্রাকচুয়াল এমপ্লয়ী, যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সাহায্য পান তাদের কর্মচারীরাও যেন অবশ্যই এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।’

বিকাশরঞ্জনের দাবি, ‘এই আদেশটা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আমরা এটাকে হয়তো বাধ্যতামূলক করব না। কিন্তু আদালত তাদের সেই কথার উপর খুব ভরসা রাখেননি। বলেছিলেন, লিখিতভাবে জানাও।’

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাজ্যের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, যোগ দিবসের কর্মসূচিতে সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। গত ১৪ জুন নবান্নের জারি করা একটি নির্দেশিকায় আগামী ২১ জুন যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে রাজ্যের সব সরকারি কর্মীদের বাধ্যতামূলক ভাবে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দিয়েছিল নবান্ন।

আরও জানানো হয়েছিল যে এই নির্দেশ কোনও ভাবেই অমান্য করা যাবে না। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সরকারি কর্মী সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটি।

বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিংহ জানতে চেয়েছিলেন রাজ্যের এমন বিজ্ঞপ্তি জারির এক্তিয়ার আছে কি না। তিনি রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, শুক্রবারের মধ্যে হলফনামা দিয়ে জানাতে।

তারপরই এদিন লিখিতভাবে নতুন নির্দেশিকা জারি করে নবান্ন। সেই প্রসঙ্গে বিকাশরঞ্জন বলেন, ‘লিখিতভাবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যেটা জানানো হয়েছে বেশ মজার। তারা বলছেন, না না এটা বাধ্যতামূলক তো নয়ই। বরং এমনকি আমরা কারও বিরুদ্ধে কোনওরকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব এটাও ভাবিনি। তা সেটাই যদি না ভেবে থাকতে তাহলে তো সরাসরি দু'লাইনের একটা আদেশ জারি করলেই হত। যে এমন একটা অনুষ্ঠান হচ্ছে সে অনুষ্ঠানে আপনারা অংশগ্রহণ করলে আমরা খুশি হব।’

উল্লেখ্য, এর আগের নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল যে, রাজ্য সরকার, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (পিএসইউ), স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং স্থানীয় সংস্থাগুলির সকল কর্তা ও কর্মীদের (যার মধ্যে স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, পার্ট-টাইম, দৈনিক মজুরি-ভিত্তিক, অস্থায়ী কর্মী, আউটসোর্সড কর্মী এবং সাম্মানিক ভিত্তিতে নিযুক্ত কর্মী) ২১ জুন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৮টা পর্যন্ত তাঁদের নিজ নিজ কার্যালয়, বাসস্থান, রেড রোড এবং মিলন মেলা (মনোনীত হলে) থেকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করতে হবে। এই নির্দেশের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছিল আদালতে।