আজকাল ওয়েবডেস্ক: লালগোলা থানা এলাকায় একটি মাদক পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের জামাই রাইহান আলিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠাল লালগোলা থানার পুলিশ। 

মাদক পাচারের মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগে রাইহানকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি  সকাল ১১ টার সময় লালগোলা থানায় এই মামলার তদন্তকারী অফিসারের সামনে  হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই মর্মে একটি নোটিস বৃহস্পতিবার সকালে লালগোলা থানার নলডহরী গ্রামে হুমায়ুন কবীরের জামাই রাইহান আলির বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে এসেছে পুলিশ। 

তবে সূত্রের খবর, পুলিশ যখন এই নোটিশ রাইহানের বাড়িতে পৌঁছতে যায় সেই সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পুলিশের তরফে পরিবারের সদস্যদের হাতে এই নোটিস ধরিয়ে আসা হয়েছে। 

মাদক পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হুমায়ুন কন্যা নাজমা সুলতানার শ্বশুরবাড়ির প্রায় ১৫ কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি 'ফ্রিজ' করার প্রক্রিয়া গত ৯ ফেব্রুয়ারি লালগোলা থানার পুলিশ শুরু করে।

লালগোলা থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মাদক পাচার মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে  ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কন্যার শ্বশুর শরিফুল ইসলাম ,শরিফুলের ছেলে রাইহান আলি এবং হুমায়ুন কন্যা নাজমার প্রায় ১৫ কোটি টাকার সম্পত্তি লালগোলা থানার পুলিশ 'ফ্রিজ' করেছে। সূত্রের খবর এখনও পর্যন্ত হুমায়ুন কন্যার এবং তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের মোট ১১ টি সম্পত্তি পুলিশ 'ফ্রিজ' করেছে।
 
লালগোলা থানার এক আধিকারিক জানান, 'হেরোইন পাচারের একটি মামলার তদন্ত করতে নেমে সম্প্রতি আমরা জানতে পারি হুমায়ুন কবীরের জামাই রাইহান আলি  নিষিদ্ধ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। সেই মামলার তদন্তের স্বার্থে আগামী ২৮  ফেব্রুয়ারি সকাল ১১ টায় তাঁকে লালগোলা থানায় তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজিরা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে।'

জামাইকে দেওয়া এই নোটিস তাঁর বিরুদ্ধে চলা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করে জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান  হুমায়ুন কবীর বলেন,"মাত্র ৪ দিন আগে আমার জামাইকে ডেকে পাঠিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমার জামাই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তাই সে  কোনও রাজনৈতিক দলেই যোগদান করতে রাজি হয়নি এবং আমার বিরুদ্ধে কোনও কথা বলতেও রাজি হয়নি।"
 
হুমায়ুনের দাবি,"প্রশাসনের কথা মেনে না চলায় লালগোলা থানায় কেস নম্বর  ৯৭/২০২৬, দিন ০৮.০২.২০২৬ এনডিপিএস আইনে রুজু হওয়া একটি মামলায়  বৃহস্পতিবার সকালে আমার জামাইয়ের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ একটি নোটিস ধরিয়ে এসেছে। আমার জামাইকে সম্পূর্ণ মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমার জামাই মাদক পাচারের কোনও ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তাই আমার জামাই এই মামলায় আগে থেকে জামিন নিতেও যাবে না এবং আগামী ২৮ তারিখ  লালগোলা থানায় হাজিরাও দেবে না। যদি পুলিশ আমার জামাইকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করে তাহলে তাদেরকে এর ফল ভুগতে হবে।"

প্রসঙ্গত, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ভূমিরাজস্ব দপ্তরের তরফ থেকে হুমায়ুন পত্নী মিরা সুলতানাকেও একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।  তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ 'নালা' প্রকৃতির জমির চরিত্র পরিবর্তন না করে তিনি মাণিক্যহার গ্রামে বেআইনিভাবে বসতবাড়ি তৈরী করেছেন।

মাণিক্যহার গ্রামে এই বাড়িতেই জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন তাঁর স্ত্রী , পুত্র এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে থাকেন।