আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভাষণে কখনও তীব্র আক্রমণ, আবার কখনও বিনয়ী স্বীকারোক্তি–দু’টি রূপেই সামনেই যে বিধানসভা নির্বাচন, সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিলেন বীরভূম তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। বুধবার বীরভূমে খয়রাশোলের মঞ্চ থেকে একদিকে যেমন বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে গরম ভাষায় আক্রমণে নামলেন তিনি, আবার দুবরাজপুরে একই দিনে জনগণের সামনে মাথা নুইয়ে ভুল স্বীকার করে নরম সুরে দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিলেন। এই গরমে–নরমে বক্তব্যেই স্পষ্ট, ভোটের ময়দানে নামার প্রস্তুতি চূড়ান্ত তৃণমূল নেতৃত্বের।

 
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির বীরভূম জেলা সফরের পর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে বীরভূম জেলা তৃণমূল। সেই প্রেক্ষিতেই জেলার বিভিন্ন ব্লকে জনসভা করে প্রচার শুরু করেছেন কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। মঙ্গলবার নলহাটির পর বুধবার খয়রাশোল ও দুবরাজপুরে জনসভা হয়। সেই মঞ্চ থেকেই বিজেপিকে লক্ষ্য করে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ ও প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন অনুব্রত মণ্ডল। 

এদিনের মঞ্চে অনুব্রত মণ্ডলের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ, কোর কমিটির অন্যতম সদস্য ও খয়রাশোলের দায়িত্বে থাকা সুদীপ্ত ঘোষ–সহ খয়রাশোল ও দুবরাজপুরের অন্যান্য নেতৃত্ব।

 বিজেপির উদ্দেশে বলেন, ‘‌এসআইআর–এর ভয় দেখাচ্ছ? আবার এনআরসি করবে? অসমে যেটা করেছ, সেভাবে জেলে ভরে রাখবে? পারবে না। কারণ এখানে মমতা ব্যানার্জি আছেন, অভিষেক ব্যানার্জি আছেন। সুপ্রিম কোর্ট তোমাদের গালে থাপ্পড় মেরেছে। তৃণমূলের সঙ্গে লড়তে পারবে না বলেই কৌশল করে বাদ দিয়ে রাজনীতি করতে চাইছ।’‌ 

এরপরেই বিজেপির উদ্দেশে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, তোমরা একটা জনসভা ডাকো, আমরা একটা জনসভা করব। যদি আমাদের লোক কম হয়, মানুষ যদি আমাদের সমর্থন না করেন, তাহলে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী দেব না। হিম্মত আছে তো এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেখাও। খয়রাশোলের মাটিতে দাঁড়িয়ে আমি চ্যালেঞ্জ করছি। হিম্মত থাকলে ময়দানে এসো, লড়ে দেখাও। আমি এক বিন্দু ভয় খাই না। মমতা ব্যানার্জি যেভাবে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে দিয়েছেন, একশ্রেণির মানুষের সেটা ভাল লাগছে না। তারা বাংলার উন্নয়ন মেনে নিতে পারছে না। কিন্তু তারা মানলে বা না মানলে আমাদের কিছু যায় আসে না।

 
এদিন মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের স্বমহিমায় দেখা যায় অনুব্রত মণ্ডলকে। খয়রাশোলের জনসভায় তিনি পঞ্চায়েত সভাপতিকে জিজ্ঞাসা করেন, কতগুলো পথশ্রী প্রকল্প হয়েছে? পঞ্চায়েত সভাপতি সঠিক তথ্য দিতে না পারায় নিজের বক্তব্য চলাকালীন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তিনি। প্রকাশ্যেই ভৎর্সনা করে বলেন, হিসেব রাখো না? 

এরপর জনগণের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, ভুল করবেন না। ওরা চেষ্টা চালাবে। নানা ধরনের লোভ ও প্রলোভন দেখাবে। কিন্তু ২০২৬ সালে মমতা ব্যানার্জিকেই থাকতে হবে। না হলে আমাদের দুর্দিন আসবে। এটা মাথায় রাখবেন। এসআইআর–এর পর ওরা এনআরসি করবে। এটা যারা আটকাতে পারে, তারা হলেন মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক ব্যানার্জি। তাই মুখ্যমন্ত্রীকে আমাদের খুব দরকার। 

খয়রাশোলের পর দুবরাজপুর জনসভায় অনুব্রত বলেন, সন্ধেবেলায় জনসভা করে অত্যাচার করছি মা–বোনেরা ক্ষমা করবেন। তিনি বলেন, ৩৪ বছরের সিপিএমকে ভয় পাইনি, কংগ্রেসকে পাইনি। বিজেপি, তোমাদেরও ভয় পাই না। গত নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে আমাদের প্রার্থী হেরে গেছিল। সেটা আমাদেরই দোষ ছিল। আমাদের ভুলের কারণে হেরে গিয়েছিল। আবারও ভুল স্বীকার করেন অনুব্রত। সঙ্গে তার সংযোজন, ‘‌এবারে যিনি প্রার্থী হবেন, তাঁকে জেতানো আপনাদের দায়িত্ব রইল।  মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী না হলে আমাদের অনেকটা ক্ষতি হয়ে যাবে।’‌

 

‌‌