আজকাল ওয়েবডেস্ক: বীরভূমে সরস্বতী পুজোর থিম ঘিরে এবার বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এল এসআইআর। সিউড়ি শহরের বড়বাগান মোড়ে বড়বাগান সর্বজনীন সরস্বতী পুজো কমিটির ৫৩তম বর্ষের পুজোকে ঘিরে এই বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এ বছর পুজোর থিম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এসআইআর, যা সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, সমাজে চলমান বিষয়কেই শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। তবে মণ্ডপে ভোটারদের ছবি ও নাম ব্যবহার করায় শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

 

ক্লাবের সম্পাদক সুবিনয় দাস জানান, বড়বাগান সর্বজনীন সরস্বতী পুজো এ বছর ৫৩ বছরে পা দিয়েছে এবং এবছরের পুজোর মোট বাজেট প্রায় ১ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা। তাঁর বক্তব্য, এসআইআর বর্তমানে অত্যন্ত সাম্প্রতিক ও চর্চিত একটি বিষয়, তাই সেই সামাজিক বাস্তবতাকেই থিমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই থিমের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই এবং কাউকে প্ররোচিত করার উদ্দেশ্যও নেই। পুজো কমিটি সচেতনভাবেই এমন কিছু দেখাতে চায়নি, যাতে অযথা বিতর্ক তৈরি হয়। পাশাপাশি তিনি জানান, পুজোর পাশাপাশি এলাকার শিশুদের উৎসাহ দিতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। তবে মণ্ডপে যে সমস্ত ভোটারদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে আলাদা করে অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, ছবিগুলি মূলত গুগল থেকে ডাউনলোড করা হয়েছে, সেখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।

 

মণ্ডপের থিম শিল্পী দেবব্রত সাহা জানান, এবছরের সরস্বতী পুজোর থিম এসআইআর-কে কেন্দ্র করেই তৈরি করা হয়েছে। প্যান্ডেলের সাজসজ্জায় মূলত কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে এবং মণ্ডপের বিভিন্ন দেওয়ালে ভোটার তালিকা ও এসআইআর সংক্রান্ত নোটিশ তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই থিমের মাধ্যমে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। মণ্ডপের দেওয়ালে যে সব ভোটারদের ছবি রয়েছে, তাঁরা বিভিন্ন সময়ে এসআইআর-এর মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, সেই বাস্তব চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে শিল্পের ভাষায়।

 

অন্যদিকে, এই থিমকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে বিজেপি। বীরভূম সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ-সভাপতি দীপক দাস বলেন, এসআইআর-কে বন্ধ করার উদ্দেশ্যে যদি এই ধরনের থিম করা হয়ে থাকে, তাহলে তা দেশদ্রোহীতার সামিল। তাঁর মতে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আড়ালে এই ধরনের বিষয় তুলে ধরে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মন্তব্য করেন।

 

যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই বিতর্ককে অন্য চোখে দেখছে। তৃণমূলের বীরভূম জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর আগেও হয়েছে, কিন্তু এভাবে মানুষকে কখনও বর্বরতার শিকার হতে হয়নি। তাঁর মতে, এই বাস্তবতার প্রতিবাদ না করলে সংবিধানকে অস্বীকার করা হয়। তিনি দাবি করেন, এর রাজনৈতিক ফল বিজেপিকে বিধানসভা নির্বাচনে ভুগতে হবে। তবে একইসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু এটি পুজো ও ধর্মীয় বিষয়, তাই এর মধ্যে রাজনীতি খোঁজা ঠিক নয়। তাঁর চোখে এই পুজোতে কোনও সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা নেই, বরং এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও বিরক্তির প্রতিচ্ছবিই শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। পুজো কমিটির এই সামাজিক ভাবনাকে তিনি সাধুবাদ জানান।