আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর পর ফের রাজ্যের দেওয়া নিরাপত্তা রক্ষীদেরকে হারালেন 'জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা পাওয়ার পর থেকেই হুমায়ুন কবীরকে দেওয়া রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা রক্ষীরা আর ডিউটির জন্য 'রিপোর্ট' করছে না বলে জানা গিয়েছে। 

এই ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর নিজেও।  তিনি বলেন,"গত ৪ মার্চ কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রকের তরফ থেকে আমাকে ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। সেদিন থেকেই  রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আমাকে দেওয়া দু'জন সশস্ত্র নিরাপত্তা রক্ষীকে তুলে নেওয়া হয়েছে।  তাঁরা আর ডিউটিতে যোগদান করছেন না। তবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আমার সুরক্ষার জন্য যে দু'জন সশস্ত্র কনস্টেবল নিয়োগ করা হয়েছিল তাঁদের 'ডিপারচারে' আমি সই করিনি।"
 
প্রসঙ্গত সম্পত্তি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা চেয়ে জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর কলকাতা হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে হুমায়ুনকে নিরাপত্তা দেওয়ার সরাসরি কোনও নির্দেশ দেননি। এরপর হুমায়ুন কবীর কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা চেয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীনস্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি লিখেন। তৃণমূলের অভিযোগ,বিজেপির সঙ্গে গোপনে হুমায়ুনের 'সেটিং' থাকায় দ্রুত তাঁর জন্য ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বরাদ্দ হয়।  
  
গত ৪ মার্চ থেকে হুমায়ুন কবীরের নিরাপত্তার জন্য  সিআইএসএফের দু'জন অফিসার, একজন হাবিলদার এবং ৯ জন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা পাওয়ার আগে হুমায়ুন  কবীরের জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে তিনজন সশস্ত্র কনস্টেবল মোতায়েন করা ছিল। এক কনস্টেবলকে ছুটি দেওয়া নিয়ে গন্ডগোলের জেরে হুমায়ুনের নিরাপত্তা রক্ষীর সংখ্যা কমে ২ জন হয়। তিনি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষা পাওয়ার পর এবার সেই সংখ্যা শূন্যে গিয়ে নামল। পুলিশ সূত্রের খবর , হুমায়ুনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করার পরই তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের সরানো হয়েছে। 

হুমায়ুন জানান, "বামেদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই করার কারণে আমার জীবনহানীর আশঙ্কা থাকায় ২০০৭ সালে আমি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। সেই সময়  থেকেই আমি রাজ্য সরকারের দেওয়া নিরাপত্তার রক্ষী পাই।"
 
তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দেওয়ার পর ২০১২ সালে হুমায়ুন কবীরের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তার চাদর বরাদ্দ হয়। সেই সময় তাঁর সঙ্গে রাজ্য সরকারের একজন পুলিশ অফিসার সহ ১০ জন ফোর্স মোতায়েন থাকত। 
তবে দল বিরোধী কাজে যুক্ত থাকায় ২০১৫ সালে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর ওই বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি হুমায়ুনের সমস্ত নিরাপত্তা রক্ষী রাজ্য সরকার তুলে নিয়েছিল। তৃণমূল বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ২০২১ সালের ১৭ মে হুমায়ুন ফের একবার রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা রক্ষীদের ফিরে পান। 

হুমায়ূন বলেন, '২০১৫ -২০২১ সাল পর্যন্ত আমাকে ব্যক্তিগত দেহরক্ষী নিয়ে ঘুরতে হয়েছে।' হুমায়ুনের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করায় একবার বিতর্কও তৈরি হয়। 

হুমায়ুন জানান, 'নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর থেকে আমার এবং ছেলের নামে ইস্যু করা মোট চারটি আগ্নেয়াস্ত্রের সর্বভারতীয় লাইসেন্স রয়েছে। এর পাশাপাশি বর্তমানে আমি ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাচ্ছি। আমার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ আধিকারিকেরা আমাকে জানিয়েছেন তাঁদের কাছে  তথ্য রয়েছে  আমার নিরাপত্তায় রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা রক্ষীরাও বহাল থাকবে। হঠাৎ করে যেভাবে  রাজ্যের নিরাপত্তা রক্ষীদের তুলে নেওয়া হয়েছে সেটা অনভিপ্রেত।  গোটা বিষয়টি তাঁরা সিআইএসএফ-এর ডিজিকে জানাচ্ছেন'
 
অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠিত নতুন রাজনৈতিক দলের নাম পরিবর্তনের কাজ  এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে। দলের নাম 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' করতে চেয়ে একটি বাংলা এবং ইংরেজি সংবাদপত্রে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে এবং কেউ 'অবজেকশন' জানায়নি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ইতিমধ্যে কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়ার তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

হুমায়ুন জানান, 'রবিবার রাতে রাজ্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের 'ফুল বেঞ্চ' আসছে। আমরা আশাবাদী  'ফুল বেঞ্চ' দিল্লিতে ফিরে যাওয়ার পরই আমাদের দলের প্রতীক কী হবে তা নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে।'