আজকাল ওয়েবডেস্ক: রবিবার অভিষেক ব্যানার্জি চিঠি দিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকারকে। সেই চিঠি স্পিকারের কাছে পৌঁছে দেন সাগরিকা ঘোষ, কীর্তি আজাদ। ঠিক তার পরের দিন, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেককে তলব করে ইডি। যখন অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, তখনই মেল আসে দিল্লি থেকে। যেভাবে ঘটেছে ঘটনাবলী-
দুপুর ২টায় স্পিকারের কার্যালয় থেকে অভিষেক ব্যানার্জিকে একটি চিঠি পাঠানো হয়।
দুপুর ২টা ১০ মিনিটে স্পিকারের কার্যালয় থেকে কীর্তি আজাদকে ফোন করে জানতে চাওয়া হয় যে, অভিষেক ব্যানার্জি বিকেল ৪টার মধ্যে এসে দেখা করতে পারবেন কি না।
এরপরই কীর্তি আজাদ একটি মেল পাঠান।
কীর্তি আজাদ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন।
অন্যদিকে টানা ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর, বাড়ি ফেরেন অভিষেক।
কীর্তি আজাদ মেলে লিখেছেন- 'আপনার অফিস থেকে আমি এইমাত্র একটি ফোন পেলাম যে, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং লোকসভায় দলের ফ্লোর লিডার অভিষেক ব্যানার্জির কাছে একটি মেল পাঠানো হয়েছে। এই খবর পাওয়ার পর আমি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের যুগ্ম জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং রাজ্যসভায় দলের ফ্লোর লিডার ডেরেক ও’ব্রায়েনের সঙ্গে যোগাযোগ করি।
তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, অভিষেক ব্যানার্জি—যিনি সমস্ত তদন্তকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—বর্তমানে কলকাতার সিজিও (CGO) কমপ্লেক্সে ইডি (ED)-র অফিসে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন। সকাল ১১টায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে এবং এই বার্তাটি লেখার সময়ও তা চলছে।
বিষয়টি সকলেই জানেন।
এই পরিস্থিতিতে তাঁর পক্ষে মেল দেখা সম্ভব নয়। জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষ হলে, আপনার পাঠানো ইমেলটির বিষয়ে আমরা তাঁকে জানাব।'
লোকসভার দল ভাঙানোর খেলা রুখতে রবিবারেই কোমর বেঁধে নেমেছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এআইটিসি সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকারের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠান দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা তৃণমূল সংসদীয় দলের নেতা অভিষেক ব্যানার্জি। সংবাদমাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন ছড়াচ্ছিল যে, লোকসভায় তৃণমূলের কয়েকজন সাংসদ নাকি নিজেদের মূল দল থেকে আলাদা করে একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী বা উপদল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সরাসরি স্পিকারের দরবারে কড়া আইনি বার্তা পাঠান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
অভিষেক ব্যানার্জি তাঁর চিঠিতে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং দৃঢ় ভাষায় মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস একটি অখণ্ড এবং অবিভাজ্য রাজনৈতিক দল। আইন অনুযায়ী, লোকসভার পরিষদীয় দল কখনই মূল রাজনৈতিক দলের বাইরে স্বাধীন কিছু নয়, বরং সেটি মূল দলেরই একটি অংশ মাত্র। তাই কয়েকজন সাংসদ নিজেদের ইচ্ছামতো দল থেকে বেরিয়ে এসে আলাদা কোনও গোষ্ঠী তৈরি করতে পারেন না এবং সংসদের ভেতরে তেমন কোনও স্বতন্ত্র স্বীকৃতিও দাবি করতে পারেন না। দল ও দলের হুইপের সিদ্ধান্তই এখানে চূড়ান্ত।
অন্যদিকে, তারপরেই জানা যায়, সাংসদরা পৃথক গোষ্ঠী তৈরি না করে, তাঁরা সরাসরি মিশে গিয়েছেন অন্য একটি দলের সঙ্গে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, লোকসভার স্পিকার সব পক্ষের সঙ্গে বসেই কথা বলতে চাইছেন, সেই কারণেই অভিষেককে তলব করা হয়েছে বলে তথ্য।















