শ্রেয়সী পাল: ফের একবার বড় ধাক্কা খেলেন 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। রবিবার রাতে একটি ভিডিও বার্তায় হুমায়ুন কবীরের 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি বিজয় শেখ হঠাৎই দল থেকে নিজের ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন। বিজয় শেখের সঙ্গে হুমায়ুনের সঙ্গ ছেড়েছেন আরও একাধিক নেতাকর্মী। 

যদিও কী কারণে বিজয় শেখ ,হুমায়ুন কবীরের 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' ছাড়লেন তা তিনি স্পষ্ট করেননি। 

২০২৫ সালের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর নিজের নতুন রাজনৈতিক দল, 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' তৈরি করেন। মুর্শিদাবাদ জেলায় দলকে মজবুত করার জন্য বিজয় শিখকে প্রথমে হরিহরপাড়া ব্লকের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি ২৬-এর নির্বাচনে বিজয় শেখ হরিহরপাড়া কেন্দ্র থেকে হুমায়ুনের দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন এবং প্রায় ৬৮ হাজার ভোট পান। 

জেলা জুড়ে বিজয় শেখের প্রভাব এবং সাংগঠনিক দক্ষতা দেখে হুমায়ুন কবীর তাঁকে নিজের দলের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি মনোনীত করেছিলেন। কিন্তু সকলকে চমকে দিয়ে রবিবার রাতে একটি ভিডিও বার্তায় বিজয় শেখ 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' থেকে নিজের ইস্তফার কথা ঘোষণা করে দেন।  বিজয় শেখ জানিয়েছেন আজই তিনি 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের কাছে নিজের লিখিত ইস্তফা পত্র পাঠিয়ে দেবেন। 

প্রসঙ্গত ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে হুমায়ুন কবীরের দলের রাজ্য সভাপতি পীরজাদা খোবায়েব আমিনও হঠাৎ করে ইস্তফা দিয়েছিলেন।
 
'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজয় শেখ বলেন,"আমি যখন যে রাজনৈতিক দল করেছি তা নিষ্ঠার সঙ্গে করেছি। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং হুমায়ুন কবীর আমাকে যথেষ্ট সম্মান দিয়েছে। কিন্তু আমি 'বিশেষ কারণে' পদত্যাগ করছি।"
 
যদিও কারও নাম না করে দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বিজয় বলেন,"যাঁরা সংগঠন বোঝে, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে, দলের নেতারা তাঁদের খবর রাখেন না। 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র প্রার্থী হিসেবে আমি যে খরচ বিধানসভা নির্বাচনে করেছি তার সমস্ত হিসাব আমার কাছে রয়েছে। যদি আর্থিক হিসাব কেউ আমার কাছে চায় সঠিক সময় দিয়ে দেব।"
 
প্রসঙ্গত গত প্রায় দু'সপ্তাহ ধরে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিড়ম্বনা বেড়েই চলেছে। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ দু'টি সুয়োমোটো মামলা রুজু করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণা ভাষণ দেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরের দলের তিন শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন ওই দু'টি সভা আয়োজন করার জন্য। এরই মধ্যে বিজয় শেখের দল ছেড়ে যাওয়া হুমায়ুনের কাছে বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 

যদিও বিজয় শেখের পদত্যাগকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতেন নারাজ 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন," আমার দলের নিয়ম এবং সংবিধান অনুযায়ী ৩২ বছরের কম বয়সী কাউকে দলের ব্লক সভাপতি পদে নিয়োগ করা যায় না। গত কয়েকদিন ধরে বিজয় শেখ, আনিসুর নামে ৩২ বছরের এক যুবককে হরিহরপাড়া ব্লক সভাপতি করতে চাইছিল কিন্তু। আমি তাঁর দাবি না মেনে বাচ্চু শেখ নামে একজনকে আমি সেই পদে বসিয়েছি। সেই কারণেই বিজয় শেখ পদত্যাগ করেছে।"
 
হুমায়ুন কবীর আরও বলেন," বাচ্চুকে হরিহরপাড়া ব্লক সভাপতি পদে বসানোর পর ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রের প্রার্থী  আশিক ইকবাল নিজের সমাজ মাধ্যমের পাতায় এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। আশিকের এই কাজ 'দল বিরোধী' এবং দলে 'গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব' তৈরিতে প্ররোচনামূলক হওয়ায় আমি তাঁকেও এক মাসের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করেছি।"
 
হুমায়ুন অভিযোগ করেন,"২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে অভিষেক ব্যানার্জির ব্যক্তিগত সচিব সুমিত রায়ের কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে  আমার দলের রাজ্য সভাপতি পীরজাদা খোবায়েব আমিন আমিন দল ছেড়েছিল। তিনি টাকার বিনিময়ে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র প্রতীকের একাধিক প্রার্থীকে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়াতে উস্কানি দিয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমার তৈরি করা চার মাসের দল মুর্শিদাবাদে দু'টো আসন জিতেছে।'
 
দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুমায়ুন কবীর বলেন,"দলের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি বিজয় শেখকে উপযুক্ত মনে করায় ব্লক সভাপতি থেকে জেলা সভাপতি পদে উন্নীত করেছিলাম এবং দলের প্রার্থীও করেছিলাম। আমার মুখ দেখেই তাঁকে হরিহরপাড়ার মানুষ ৬৮ হাজার ভোট দিয়েছিলো। আমার সেই সিদ্ধান্ত যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে আনিসুরকে আমার দলের হরিহরপাড়া ব্লক সভাপতি পদে বসানোর সিদ্ধান্তও সঠিক। আমি কারও পদত্যাকে বিন্দুমাত্র বিচলিত নই।"