আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাতসকালে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়ল আইটিবিপি (ITBP) বা ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের একটি কনভয়। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) ভোররাতে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে হুগলির গুরাপ এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুত গতিতে থাকা আধিকারিকদের একটি গাড়ি সামনে থাকা ট্রাক ও পিছন থেকে আসা একটি ছোট গাড়ির মাঝে পড়ে পিষ্ট হয়। এই ঘটনায় একজন চিকিৎসক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকসহ মোট ৬ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইটিবিপি-র ৪২ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা রাজস্থান থেকে ট্রেনে করে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি স্টেশনে এসে নামেন। সেখান থেকে সড়কপথে তাঁদের গন্তব্য ছিল বীরভূমের মারগ্রাম। কনভয়ের একটি সাদা রঙের স্করপিও গাড়িতে ছিলেন সহকারী কমান্ড্যান্ট রঘুনাথ সিং ভাটি এবং মেডিক্যাল অফিসার জিতন। ভোর ৩টা ৩৫ মিনিট নাগাদ গুরাপ থানার মিশ্রা পাম্পের কাছে বর্ধমানমুখী রাস্তায় হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্করপিওটি সামনে থাকা একটি চলন্ত ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার চোটে গাড়িটি রাস্তার ওপর ঘুরে গেলে পিছন থেকে আসা একটি ‘টাটা পাঞ্চ’ গাড়ি সজোরে সেটিকে ধাক্কা দেয়।
মিনিটের মধ্যেই জাতীয় সড়কের ওপর হুলস্থুল পড়ে যায়। খবর পেয়ে গুরাপ থানার সাব-ইনস্পেক্টর নাজিম হোসেন খান দ্রুত বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পুলিশি তৎপরতায় আহতদের উদ্ধার করে বর্ধমানের শক্তিগড় এলাকার একটি বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনায় সহকারী কমান্ড্যান্ট রঘুনাথ সিং ভাটির ডান পায়ে গুরুতর চোট লেগেছে। এছাড়া গাড়িতে থাকা চিকিৎসক জিতন, নিরাপত্তা কনস্টেবল ওম প্রকাশ যাদব এবং চালক রমেশ মাল সামান্য চোট পান। পিছনের গাড়িটির দুই আরোহী জুল হাসান খান ও ইনসান আলিও জখম হয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও সহকারী কমান্ড্যান্ট বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল এবং তিনি বিপদমুক্ত। দুর্ঘটনার জেরে স্করপিও ও টাটা পাঞ্চ গাড়ি দুটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি সুযোগ বুঝে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ দেখেছে, নিকটবর্তী মিশ্রা সার্ভিস স্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও দুর্ঘটনার সঠিক মুহূর্তটি ধরা পড়েনি। কারণ সেই সময় দুটি কন্টেনার লরি তেল নিচ্ছিল, ফলে ক্যামেরার দৃশ্য আড়াল হয়ে যায়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি দুটি উদ্ধার করে গুরাপ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ভোরবেলার কুয়াশা নাকি চালকের ক্লান্তি, ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে সাতসকালে জাতীয় সড়কের এই ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।















