আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার দপ্তরের নতুন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ দায়িত্ব গ্রহণের পরই গ্রন্থাগার ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন।
বৃহস্পতিবার তিনি জানান, রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিতে শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও জ্ঞানবর্ধক বই রাখার ওপর জোর দেওয়া হবে। সেই কারণে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির লেখা কিছু বই লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘এপাং ওপাং ঝপাং-এর মতো মমতা ব্যানার্জির অপ্রয়োজনীয় বই থাকছে না। যে ধরনের বই পড়ে ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞানচর্চা বা শিক্ষাগত উন্নতি হবে না, সেগুলিকে লাইব্রেরিতে রাখার কোনও প্রয়োজন নেই।’ তাঁর কথায়, ‘শিক্ষামূলক বই লাইব্রেরিতে স্থান পাবে। যে বইগুলি পাঠকদের জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়ক নয়, সেগুলি পর্যালোচনা করে সরিয়ে দেওয়া হবে।’
একইসঙ্গে রাজ্যের গ্রন্থাগারগুলিকে আধুনিকীকরণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ই-লাইব্রেরি ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদ, আধুনিক বিজ্ঞান এবং বাংলার মনীষীদের রচনা আরও বেশি করে পাঠকদের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
গৌরী শঙ্কর ঘোষের দাবি, বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকা ব্যক্তিত্বদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। বাংলার গঠনের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই তাঁর লেখা ও তাঁকে নিয়ে বই লাইব্রেরিতে রাখা হবে।’
এর পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা ও ভাবধারাকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে গ্রন্থাগার মন্ত্রীর অভিযোগ, শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম নির্ধারণে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, সেই কারণেই এমন কিছু বই পাঠ্যসূচি ও গ্রন্থাগারে স্থান পেয়েছিল, যা নিয়ে এখন পুনর্বিবেচনা করা হবে।















