আজকাল ওয়েবডেস্ক: পিকনিকে গিয়ে তুমুল হুল্লোড়। বাড়ি ফেরার পথেই সব শেষ! হুগলিতে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। বাইক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই যুবকের। 

 

পুলিশ জানিয়েছে, পিকনিক করে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুই যুবক। রবিবার রাতে হুগলি পোলবার রাজহাট মোড় থেকে ব্যান্ডেলের দিকে আসার রাস্তায় একটি বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা ইলেকট্রিক পোস্টে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বাইকে থাকা দুই আরোহীর। 

 

জানা গেছে, তাঁদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের নাম রোহিত সিং (২৩) ও রাজা প্রসাদ (২৭)। তাঁরা একে অপরের বন্ধু ছিলেন। 

 

রোহিত সিং গরিফার বাসিন্দা এবং জুপিটার কোম্পানিতে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাজা প্রসাদ রিষড়ার বাসিন্দা। তিনিও জুপিটারে কাজ করতেন। দুই বন্ধুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া এলাকায়। 

 

গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে আরও এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল বাংলায়। সরস্বতী পুজোয় আনন্দ করতে চার বন্ধু এক সঙ্গে বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের আর বাড়ি ফেরা হয়নি। মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় চারজনেরই। ঘটনাটি ঘটে নদিয়ার তেহট্ট থানার কানাইখালি বাজারে। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। 

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা মেরেছিল বাইকটি। অনেকের অভিযোগ ট্রাকের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। রাস্তায় ওই চার যুবকের দেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তেহট্ট থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে চারজনকেই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে দু'জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। বাকি দু'জনের অবস্থা আশঙ্কজনক হওয়ার কারণে কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই সকালে দুই ছাত্র মারা যান। 

 

এরপর গত সেপ্টেম্বর মাসে দুর্গা প্রতিমা আনার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এক গাড়ি। মৃত্যু হয় তিন জনের। গুরুতর আহত হয়ে আরও তিন জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। 

 

ঘটনাটি ঘটেছিল শুক্রবার গভীর রাতে হুগলির পোলবা থানার অন্তর্গত অনন্তপুর এলাকায়। মৃত তিন জনের নাম ভাস্কর দেবধারা (২৯)। বাড়ি সুগন্ধার শঙ্করবাটি এলাকায়। প্রীতম চক্রবর্তী (৩০) ও স্বপন দে (৪০)। এই দু’‌জনের বাড়ি চন্দননগর কাঁটাপুকুর এলাকায়। 

 

জানা গেছে, পোলবার শঙ্করবাটি হাইস্কুল লাগোয়া মাঠে দুর্গাপুজো হয়। ঘটনার দিন রাতে চন্দননগর পটুয়াপাড়া থেকে ঠাকুর আনতে গিয়েছিলেন পোলবার শঙ্করবাটি গ্রামের বারোয়ারীর সদস্যরা। জানা গেছে, ঠাকুরের গাড়ি গ্রামে পৌঁছে গেলেও পিছনে থাকা চার চাকা গাড়িটি পৌঁছতে দেরি হতে থাকে। গাড়িতে ছিলেন চালক সহ পুজো আয়োজকদের ছয় জন। 

 

পুজো কমিটির এক সদস্য জানান, অনেক দেরি হতে দেখে তাঁরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। চার চাকা গাড়ি কেন ফিরছে না দেখে ওই গাড়িতে থাকা একজনকে ফোন করা হয়। পুলিশ ফোন ধরে জানায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। কমিটির সদস্যরা সেখানে পৌঁছন। আহতদের উদ্ধার করে চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। 

 

জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে চন্দননগর রেল ওভার ব্রিজ থেকে নামার সময় রাস্তার পাশে থাকা ইটের পাঁজায় সজোরে ধাক্কা মারে চার চাকা গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’‌ জনের। বাকি চারজন টুকুন বাউলদাস, স্বপন মাইতি, সোমনাথ দেব ধারা সহ আরও একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রথমে চন্দননগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তারপর পোলবা থানার পুলিশ সেখানে যায়।