মিল্টন সেন: হুগলি মহসিন কলেজের আইন বিভাগের বার্ষিক অনুষ্ঠানে এসে সরকারি আইন কলেজের ভূয়সী প্রশংসা করলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। উদাহরণ স্বরূপ তিনি তুলে ধরেন মাদুরাই বেঞ্চে মুট কোর্টের কথা। বলেন, ‘মাদ্রাজ হাইকোর্টের স্থায়ী মুট কোর্ট হয় মাদুরাইয়ে। সেখানে গোটা দেশের ৪২টি ইনস্টিটিউট থেকে আইনের ছাত্র ছাত্রীরা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার থেকে শুরু করে প্রথম চারটি পুরস্কারই পান সরকারি আইন কলেজের পড়ুয়ারা।

 

কলেজের অধ্যাপকরাও তাঁদের উৎসাহ দেন’। আইন বিভাগের পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে বিচারপতি জানান, ‘আইন খুব সিরিয়াস বিষয়। যাঁরা আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন, মনে রাখবেন তাঁদের কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। দিনের ২৪ ঘণ্টা এই কাজের সঙ্গে লিপ্ত থাকার মানসিকতা থাকতে হবে’। এদিন আইন কলেজের মুট কোর্ট রুমে দেশের প্রাক্তন মুখ্য বিচারপতি বিজন কুমার মুখার্জির প্রতিকৃতির আবরণ উন্মোচন করেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। হুগলি মহসিন আইন কলেজ থেকে পাশ করা সাতজন বিচারক বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

তাঁদের মধ্যে এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ, অজয় মুখার্জি, পার্থসারথি চ্যাটার্জি ও বিভাস পট্টনায়ক। উপস্থিত ছিলেন, হুগলি জোনাল জজ জয় সেনগুপ্ত এবং জুডিশিয়াল সেক্রেটারি সিদ্ধান্ত কাঞ্জিলাল, হুগলি জেলা জজ শান্তনু ঝাঁ, হুগলি জেলা শাসক মুক্তা আর্য, জেলার, সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গাঙ্গুলি। আইনজীবী কাজী ইমরানুল হকের বক্তব্য, এই কলেজ থেকে আইনের অধ্যয়ন করে তিনি গর্বিত।

 

বিশেষ করে গর্বিত এই কলেজেরই প্রাক্তনী স্বর্গীয় বিজন কুমার মুখার্জির জন্য যিনি এককালে সুপ্রিম কোর্টের মুখ্য বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও এই কলেজের একাধিক প্রাক্তনী কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতির দায়িত্বে রয়েছেন। অনেক প্রাক্তনী বিভিন্ন জেলা আদালতের মুখ্য বিচারকের দায়িত্ত্ব রয়েছেন। আইনজীবী কাজী ইমরানুল হক আশাবাদী, কলেজের এই সুনাম অক্ষত থাকবে। আগামীদিনে কলেজের আইন বিভাগ আরও উন্নত হবে।

 

ছবি: পার্থ রাহা